‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সব সময় চাপ থাকবেই। তারপরও প্রথম ম্যাচে ভারতকে পেয়ে আমরা খুশি। প্রথম ম্যাচেই আমাদের সামনে সেরা খেলা দেখানোর একটা সুযোগ থাকছে। প্রথম পরীক্ষায় পাস করে গেলে পরের চাপটা আর খুব একটা বেশি বলে মনে হবে না। ’
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রতিবেশি দেশ দুটির মধ্যে ক্রিকেট মাঠে লড়াই মানেই নতুন এক ইতিহাস, বিস্ময়কর কিছু পারফরম্যান্স আর রোমাঞ্চকর অনুভূতি। আর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের পর্দা উঠছে এই ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। তবে, আকাশচুম্বি এই ম্যাচকে সামনে রেখেও নির্ভার পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। উল্টো চাপকেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন। জানালেন, উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের মোকাবেলা করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্ট তার দল।
গতকাল শনিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির হন অধিনায়ক হাফিজ। ৩৩ বছর বয়সী এই অধিনায়ক বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সব সময় চাপ থাকবেই। তারপরও প্রথম ম্যাচে ভারতকে পেয়ে আমরা খুশি। প্রথম ম্যাচেই আমাদের সামনে সেরা খেলা দেখানোর একটা সুযোগ থাকছে। প্রথম পরীক্ষায় পাস করে গেলে পরের চাপটা আর খুব একটা বেশি বলে মনে হবে না। এশিয়া কাপে তাদের হারিয়েছি। তাদের দলে কে এলো, তাতে কোনো পার্থক্য হবে না। আশা করি এবারও হারাতে পারবো।’
সর্বশেষ এশিয়া কাপের ম্যাচেই ভারতকে হারিয়েছে পাকিস্তান। এবার লড়াই টি-টোয়েন্টির। সাম্প্রতিক সময়ের ফর্মেও ভারত ঠিক সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। এতো কিছুর পরও ভারতকে খাটো করে দেখতে নারাজ মোহাম্মদ হাফিজ, ‘অবশ্যই আমরা কোন দলকেই ছোট করে দেখছি না। প্রতিটি দলই এখানে ভাল। আমরা শুরু থেকেই ভাল খেলতে চাই। এখানে প্রতিটি গ্রুপেই শক্তিশালী কিছু দল আছে। কাউকেই হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। ভাল খেলেই আমাদের জিততে হবে।’
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। এ ছাড়াও দুই নম্বর গ্রুপে পাকিস্তানের সঙ্গী টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া ও প্রথম পর্বে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়াও অন্যান্য ম্যাচগুলো নিয়েও আলাদা করে কাজ করছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, ‘মিডিয়া সব সময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জন্য আগ্রহ দেখায়। আমাদের অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়েও ভাবতে হবে। আমরা তাদের নিয়েও ভাবছি।’
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত শহীদ আফ্রিদি পাকিস্তান দলের সঙ্গে ঢাকা আসেননি। তবে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে দলকে জেতানো এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানান হাফিজ। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল ঢাকায় চলে আসবেন তিনি, ‘আফ্রিদি ফিট আছেন। কিছুটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। তাকে এজন্য কিছু সময় দেয়া হয়েছে। তিনি ১৭ তারিখ বাংলাদেশের দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।’
এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে আছে পাকিস্তান। আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পাকিস্তান আরও পরিপক্ক বলেই মন্তব্য করলেন হাফিজ, ‘পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে সেরা দলটা নির্বাচকরা গড়েছেন। বেশ কিছু সময় ধরে এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে আমরা খুবই ভালো করছি।’
বাংলাদেশের পিচে স্পিনাররা যে বাড়তি সুবিধা পাবেন, তা জানাই আছে হাফিজের। পাকিস্তান দলেও আছে সাঈদ আজমল, শহীদ আফ্রিদির মতো স্পিনার। কন্ডিশনের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নেয়ার ঘোষণাই দিয়ে দিলেন হাফিজ, ‘কন্ডিশন আপানাকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেবে, এটা দলের সেরা সমন্বয় খুঁজে পেতে সাহায্য করে। উপমহাদেশে স্পিনাররা বিশাল ভূমিকা রাখে। তারা এই পরিবেশটা উপভোগই করবেন।’
