টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘপ্রতীক্ষার অবসান ঘটছে আজ। ক্রিকেট দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এই মধুর লড়াইকে স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত চট্টগ্রাম। বিশ্বকাপ ভেন্যু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামসহ গোটা বন্দরনগরীকে সাজানো হয়েছে বর্ণাঢ্য সাজে। আজ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হংকং ও নেপালের ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ আসরের।
নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরীর সবুজ ঘাসে অনুশীলন করে দুই দলই। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হওয়া অনুশীলন চলে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত। মাঠের পশ্চিম অংশে ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করে হংকং। একই সময়ে তাদের ঠিক বিপরীত পাশে নেটে অনুশীলন করে নেপাল। অনুশীলন শুরুর আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে ভালো খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই অধিনায়কই। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেয়ে দু’জনেই দারুণ খুশি। হংকংয়ের অধিনায়ক জেমি এটকিনসন বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার আগে গত কয়েকমাস কঠোর পরিশ্রম করেছি আমরা। টি-২০ বিশ্বকাপের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কতদূর যাবো জানি না। তবে বিশ্ব পর্যায়ে খেলতে পারাটাই আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। এটি আমাদের কাছে স্বপ্ন পূরণের মত একটি ব্যাপার।’ একই কথা বলেছেন, নেপালের অধিনায়ক পরশ খাড়কা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশ নেয়াটা আমাদের কাছে উত্সবের মত একটি ব্যাপার। আমরা ভালো খেলতে চাই। কারণ পুরো নেপাল আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন এ ধরনের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।’
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন দুই অধিনায়কই। ১৩ বছর আগে এই মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে গিয়েছেন পরশ খাড়কা। এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পরশ বলেন, ‘১০ বছরে অনেক কিছুই পাল্টে গিয়েছে। আগের তুলনায় এই স্টেডিয়ামকে এখন আরো অনেক সুন্দর ও সাজানো-গোছানো মনে হচ্ছে। উইকেট দেখে মনে হচ্ছে ব্যাটসম্যানরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। তবে এই পিচে স্পিনারদেরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।’
টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য গত কয়েক মাস নিজেদের উজাড় করে তৈরি করেছে নেপাল। পরশ জানালেন, ‘ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংসহ সব ডিপার্টমেন্টেই দারুণ ব্যালান্সড একটি দলের নাম নেপাল।’ তবে টিম স্পিরিটকেই দলের প্রধান শক্তি হিসেবে দাবি করলেন নেপালি অধিনায়ক। বললেন, ‘নিজেদের সক্ষমতার ওপর দারুণ আস্থা রয়েছে আমাদের। আমরা বিশ্বের দর্শকদের সামনে আমাদের সেরা খেলাটাই উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি।’
গত বছর আবুধাবীতে টি-২০ বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে টানটান উত্তেজনায় ভরা এক ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল নেপাল। তবে সেমিফাইনালে তারা হেরে যায় আফগানিস্তানের কাছে। পরে সংযুক্ত আরব আমীরাতের বিরুদ্ধে প্লে অফ ম্যাচ জিতে টি-২০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকেট আদায় করে নেয় তারা।
আজ আবার মুখোমুখি এশিয়ার দুই নবীন দল। নেপাল আইসির সহযোগী সদস্য দেশের মর্যাদা লাভ করে ১৯৮৮ সালে। ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নেপালের অভিষেক হয় ২০০৪ সালে। অন্যদিকে, হংকং প্রথমবার আইসিসির সদস্যপদ লাভ করে ১৯৬৯ সালে। ২০০৪ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নেয়া হংকংয়ের এ পর্যন্ত চারটি ওডিআই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
