ইউক্রেনের স্বায়ত্বশাসত উপদ্বীপ ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেবে কিনা সেই প্রশ্নে আজ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে গতকাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিমাদের উত্থাপন করা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে অধিকাংশ দেশ। প্রস্তাবে ক্রিমিয়ার গণভোটের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। রাশিয়া বাদে সব দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে চীন ভোটদানে বিরত থেকেছে। এর ফলে ক্রিমিয়ায় আক্রমণ করা হলে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হবে। অন্যদিকে ইউক্রেনের রুশভাষী খারকিভ নগরীতে মস্কোপন্থী ও কিয়েভপন্থীদের মধ্যে দুই দিনের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মস্কোয় বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
গতকাল শনিবার পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একদল লোক খারকিভ নগরীর ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীদের সদরদপ্তরে ঢোকার চেষ্টাকালে জাতীয়তাবাদীরা তাদের ওপর গুলি চালালে এক মস্কোপন্থী বিক্ষোভকারী ও এক পথচারী নিহত হয়। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে উস্কে দিতে পারে। রাশিয়া ইউক্রেনে বসবাসকারী রুশভাষীদের নিরাপত্তার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে ঘোষণা দেয়ার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এ সহিংস ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানায়, শুক্রবার খারকিভের কেন্দ্রীয় সোবোবা (স্বাধীনতা) স্কয়ারে মস্কোপন্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে ইউক্রেন জাতীয়তাবাদীরা একটি গাড়ির ভিতর থেকে তাদের ওপর গুলি চালালে এ সহিংস ঘটনার সূত্রপাত্র হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হয়নি। এ ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মস্কোয় সমাবেশকালে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। এটা রাশিয়ার জন্যই অসম্মানের।
রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়া যোগ দিবে কিনা সেই প্রশ্নে রাশিয়ায় আজ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি মার্কিন প্রস্তাব পাস হয়েছে যাতে ক্রিমিয়ার ভোটকে প্রত্যাখান করা হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের বিষয় আলোচনা করতে সামনের সপ্তাহে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া সফরে যাবেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরে একটি মার্কিন নৌবহর দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়াকে ক্রিমিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের আহবান জানালেও রাশিয়া তাতে কর্ণপাত করেনি। রাশিয়া বলছে, ক্রিমিয়ায় রুশভাষীদের নিরাপত্তা দেওয়াই লক্ষ্য। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেন ও মস্কো উভয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে জোর দিয়ে বলেছে তারা যুদ্ধ চায় না। শুক্রবার কেরি বলেন, সঙ্কট সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা না গেলে সোমবার বিকল্প যে সব ব্যবস্থা হাতে আছে সে অনুযায়ী ইইউ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে খুবই মারাত্মক কিছু পদক্ষেপ আসবে। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বেঠকে জাতিসংঘে মস্কোর রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন ক্রিমিয়ায় গণভোটের পক্ষ সমর্থন করেন। এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির মুখে লন্ডনে দু’পক্ষের বৈঠককে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা আবারো শুরুর প্রেক্ষাপট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্ব হুমকি দিলেও রাশিয়া শুক্রবারও ক্রিমিয়ায় সৈন্য পাঠিয়েছে। জাহাজ ভরে সৈন্য আসে ইউক্রেনের আশেপাশে।
