আওয়ামী লীগ এগিয়ে

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৯
অবশেষে তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে থাকলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ২১৩টি উপজেলা নির্বাচনে পিছিয়ে ছিল দলটি। গতকাল শনিবার ৮১টি উপজেলার ৭৮টি বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ঠ উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তরা। তৃতীয় এই ধাপের নির্বাচনের ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪০টি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৭ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আর বিদ্রোহী জিতেছেন ৩টিতে। এ নিয়ে তিনধাপে ২৯৩টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ১২০টি চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। যদিও গতবারের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি দলটি। অন্যদিকে বিএনপি পেয়েছে ২৮টি। তিনধাপে দলটি পেয়েছে ১২৪টি চেয়ারম্যানের পদ। জামায়াত ইসলামী ৭টি ও অন্যান্য পেয়েছে ৩টি। জামায়াতে ইসলাম তিনধাপে পেয়েছে ২৭টি চেয়ারম্যান পদ। গতবারের তুলনায় বিএনপি-জামায়াত ভালো ফলাফল করেছে। গতকাল ৩টি উপজেলার ভোটের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এগুলো হলো-বরিশালের হিজলা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা। হিজলার ৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। ২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি ফলাফলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ টিপু সুলতান প্রায় দু’শ ভোটে বিএনপি প্রার্থী দেওয়ান শহিদুল¬াহর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মুক্তাগাছায় ৩টি কেন্দ্র স্থগিত আছে। ৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া এগিয়ে আছেন। হাজীগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রশিদ এগিয়ে রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজ উপজেলা টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্রোহী এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুলের নিজ উপজেলা কিশোরগঞ্জের সদরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। প্রথম দুই ধাপের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব বিবেচনায় রেখে তৃতীয় ধাপে ৪১ জেলার ৮১ উপজেলার দিকে সতর্ক নজর ছিল প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও সর্বত্র ছিল রাজনৈতিক আবহ। প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু করে প্রচারণা ও ফলাফল পর্যন্ত ছিল রাজনৈতিক অঙ্গণে উত্তেজনা। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন জালভোট, ব্যালট ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মধ্যে ভোট সম্পন্ন হয়। কোথাও কোথাও ভোটারদের ভোটদানে বাধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রথম ধাপে নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলেও দ্বিতীয় ধাপে সহিংসতা বাড়ে। তবে তৃতীয় ধাপে এসে এই সহিংসতা আরো বৃদ্ধি পায়। সহিংসতায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এসব উপজেলার ৫৫টিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছিলেন। আর বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল মাত্র ৯টিতে। জাতীয় পার্টি সমর্থিতরা বিজয়ী হয়েছিলেন ছয়টিতে এবং জামায়াত তিনটিতে। ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আওয়ামী লীগ ৫২টিতে, বিএনপি ১০টিতে, জাতীয় পার্টি এক এবং জামায়াত চারটিতে বিজয়ী হয়েছিল। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আওয়ামী লীগ ৪৭টিতে, বিএনপি ১৯ এবং জাতীয় পার্টি একটিতে বিজয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৪০ জন তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন, ১. নেত্রকোনা সদরে এসএম কামরুল হাসান শাহীন ২. শরীয়তপুর সদরে আবুল হাশেম ৩. শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ইসমাইল হক ৪. ফরিদপুরের সদরে আবুল হোসেন দফাদার ৫. সদরপুরে সফি কাজী ৬. আলফাডাঙ্গায় এমএম জালালউদ্দিন ৭. ভাঙ্গায় শাহাদাত্ হোসেন ৮. বরিশালের বাবুগঞ্জে সরদার খালেদ হোসেন স্বপন ৯. মুলাদী তারিকূল হাসান ১০. নীলফামারী সদরে আবুজার রহমান ১১. রাঙ্গামাটির কাউখালীতে এসএম চৌধুরী ১২. বাগেরহাটের সদরে মো. মুজিবর রহমান খান ১৩. রামপালে শেখ আবু সাঈদ ১৪. শরণখোলায় কামালউদ্দিন, ১৫. মংলায় আবু তাহের ১৬. মোরলগঞ্জে শাহ-ই আলম ১৭.টাঙ্গাইলে ধনবাড়িতে মীর ফারুক ১৮. সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে শেখ ওহিদুজ্জামান ১৯. ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মোহাম্মদ মজনু ২০. দিনাজপুর সদরে ফরিদুল ইসলাম ২১. কুড়িগ্রাম সদর পনিরউদ্দিন আহমেদ ২২.কুড়িগ্রামের রৌমারিতে মুজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ২৩. চিলমারীতে শওকত আলী সরকার, ২৪. নড়াইলের লোহাগড়ায় ফয়জুল আমীর ২৫. সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আবু জাহিদ ২৬. কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে শামসুদ্দিন কালু ২৭. ব্রাক্ষনপাড়ায় জাহাঙ্গীর খান ২৮. চৌদ্দগ্রামে আবদুস সোহবান হাসান ২৯. চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে আল মামুন ৩০. শেরপুরের শ্রীবর্দীতে আশরাফ হোসেন খোকা ৩১. মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রফিকুল ইসলাম ৩২. জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আবুল কালাম আজাদ ৩৩. গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গাজী গোলাম মোস্তফা ৩৪. রাজশাহীর দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম ৩৫. ভোলা সদরে মোশাররফ হোসেন ৩৬. চাঁদপুরের কচুয়ায় শাহাজান শিশির ৩৭. কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আইয়ুব আলী ৩৮. ফেনীর দাগনভূঁইয়ায় দিদারুল কবির রতন ৩৯. নওগাঁর পোরসায় আনারুল ইসলাম ৪০. যশোরের মনিরামপুরে আমজাদ হোসেন লাভলু। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শাহাদাত্ হোসেন, কুড়িগ্রামের রৌমারিতে মুজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গাজী গোলাম মোস্তফা জয়লাভ করেছে। বিএনপির বিজয়ী ২৮ জন বিএনপির বিজয়ীরা হলেন, ১. জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কামরুজ্জামান কমল ২.ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে নুরুল ইসলাম ৩. কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নুরুল মিল্লাত ৪. কিশোরগঞ্জ সদরে শরিফুল ইসলাম ৫. ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বাদল আমিন ৬. মধুখালীতে আজিজুর রহমান মোল্লা ৭. নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে আকম শফিকুল ৮. লক্ষ্নীপুরের কমলনগরে সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুল আলম ৯.বান্দরবান সদর উপজেলায় আবদুল কুদ্দুছ ১০. আলীকদম উপজেলায় আবুল কালাম ১১. খুলনার পাইকগাছায় বাবর আলী ১২. কুমিল্লার হোমনায় আজিজুর রহমান মোল্লা ১৩. বুড়িচংয়ে মিজানুর রহমান ১৪. তিতাসে সালাউদ্দিন সরকার ১৫. গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে সাইদুর রহমান ১৬. মানিকগঞ্জের ঘিওরে খন্দকার লিয়াকত হোসেন ১৭. রাজশাহীর চারঘাটে আবু সাঈদ ১৮. গোদাগাড়ীতে ইসহাক আলী ১৯. লালমনিরহাটের আদিতমারী আইয়ুব আলী ২০. ময়মনসিংহের ফুলপুরে আবুল বাসার আকন্দ ২১. ফুলবাড়ীয়ায় আজিজুর রহমান ২২. গৌরিপুরে আহমদ তায়েবুর রহমান হিরন ২৩. টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এ এস ফেরদৌস ২৪. পিরোজপুরের নেছারাবাদে ওহিদুজ্জামান ২৫. সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে শামসুল আলম ২৬. ব্রাক্ষনবাড়িয়ার নবীনগরে শফিকুল ইসলাম ২৭. চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলারহাটে আনারুল হক ২৮. নোয়াখালীর সেনবাগে আবুল কালাম আজাদ। জামায়াতের বিজয়ী ৭ জন জামায়াতের বিজয়ী হলেন, ১. চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় আজিজুর রহমান ২. গাইবান্ধা সদরে আবদুল করিম ৩. নওগাঁর ধামুরহাট মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন ৪. মান্দায় অধ্যাপক আবদুর রশিদ ৫. চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরে মোখলেসুর রহমান ৬. শিবগঞ্জে কেরামত আলী ৭. দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নূরে আলম সিদ্দিক। অন্যান্য বিজয়ী ৩ জন অন্যান্য বিজয়ীদের দুইজন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস)। অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন, ১. রাঙ্গামাটির বরকলে-মনি চাকমা (জেএসএস) ২. বাঘাইছড়িতে ধর ঋষি (জেএসএস) ৩. চট্টগ্রামের চন্দ্রনাইশে এলডিপির আব্দুল জব্বার।