তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩০
আজ থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে থাকছে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে সব কয়টি গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক নজরদারি করবে। মোতায়েন করা হচ্ছে সেনাবাহিনীও। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবগুলো সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশের সোয়াত ও র্যাবের কমান্ডোরা প্রস্তুত রয়েছে নিরাপত্তায়। আকাশ পথে র্যাবের হেলিকপ্টার নিয়মিত টহল দেবে। বাংলাদেশে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার নিয়ে সেনাবাহিনীও প্রস্তুত থাকছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিখুঁত করতে গতকাল শনিবার আর্মি স্টেডিয়ামে বিশেষ মহড়া হয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় র্যাব কি ধরনের দায়িত্ব পালন করবে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হবে মহড়ায় এগুলোই অনুশীলন করা হয়। মহড়ায় দেখানো হয়, একটি দল মাঠে খেলছে। খেলা শুরুর ৩০ মিনিট পর মাঠের প্রবেশপথে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করে। ওই প্রবেশপথগুলো দিয়ে র্যাব সদস্যরা কমান্ডোদের মতো মুহূর্তের মধ্যে ঢুকে দুর্বৃত্তদের নিষ্ক্রিয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময় হেলিকপ্টার থেকে র্যাবের একটি দল মাঠে নামে। এর পর ডগ স্কোয়াড নিয়ে র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল মাঠে প্রবেশ করে। ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা হামলাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করে এবং মাঠে আরো কোন বিস্ফোরক আছে কিনা সেটা অনুসন্ধান করে। মহড়ায় দেখানো হয়, এসময় ডগ স্কোয়াডের সদস্য একজন হামলাকারীকে সনাক্ত করে তার উপর হামলা চালায়। র্যাব সদস্যরা হামলাকারীকে পাকড়াও করে। বোমা বিস্ফোরণে কোন খেলোয়াড় আহত হয়েছে কিনা র্যাবের মেডিকেল টিমের সদস্যরা সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। আহত খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে নিয়ে যায়। জরুরি চিকিত্সার প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের হেলিকপ্টারযোগে নিয়ে যাওয়া হয়। মহড়ায় দেখানো হয় পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং মাঠে প্রবেশ করে সেনাবাহিনী। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার করে আসা সেনা সদস্যরা মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়াড়দের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। আর্মি স্টেডিয়ামের দর্শক গেলারিতে বসে সেই মহড়ার দৃশ্য দেখেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি। সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিবুর রহমান, সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন আকবর, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, বিসিবির ও সেনাবাহিনীর অন্য কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। মহড়া শেষে বিসিবির সভাপতি বলেন, কোন কোন দেশ বাংলাদেশে বিশ্বকাপের খেলার নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছিল। আইসিসির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মাঠ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশেষ মহড়ার দৃশ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কোন ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা তাত্ক্ষণিক মোকাবেলা করার জন্য র্যাব প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা থাকছে। মাঠ ছাড়াও খেলোয়াড়দের হোটেল, তাদের ব্যবহূত সড়কও পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে থাকবে।