ত রু ণী ক থা .........................................................................

রওশন জাহান সেতু

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:২৮
রওশন জাহান সেতু। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে পড়াকালেই স্কলারশীপ নিয়ে চলে যান পোল্যান্ড। সেখানে ভর্তি হন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারশ’-এ। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বর্ষ পেরিয়ে এখন তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। আমাদের দেশে বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের ব্যাপক অগ্রগতি চোখে পড়ে। শহর থেকে একেবারে পাড়াগ্রামের নারীরাও এখন শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন হয়েছেন। এখন মফস্বলের অনেক মেয়েই শহরে থেকে পড়াশুনা করছেন। পরিবারের সহযোগিতায় এমনকি ঢাকাতেও পড়ালেখার সুযোগ মিলছে তাই বলে দেশের বাইরে? দেশে-বিদেশে নারীদের পড়াশুনার সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, তার স্কলারশীপ পাওয়ার পেছেনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের সহযোগিতা না পেলে একার পক্ষে স্কলারশীপের সুযোগটা মিলতো না। এছাড়া ফ্রেন্ড সার্কেলের সহযোগিতাও ছিল। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন তার বাবা। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে একজন মেয়ের পক্ষে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ গমন খুব একটা সহজ বিষয় নয়। সমাজ এবং অনেক সময় শিক্ষিত পরিবারও এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে আমার পরিবারের কাছে থেকে আমি পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি দৃঢ় সংকল্পের কারণে। একান্ত ইচ্ছায় একা চলতে শিখেছি। সংকল্প ছিল আর নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ছিল। এজন্যই সব বাধা ডিঙিয়ে এপর্যন্ত আসতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি। দেশে পড়াশুনা করেছেন এবং দেশের বাইরে ভিন্ন ক্যাম্পাস, আলাদা পরিবেশ। কেমন লাগছে সবকিছু জানতে চাইলাম তার কাছে। সেতু জানান, ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ যেমন তাদের দায়িত্বশীল তেমনি শিক্ষার্থীরাও। গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশুনা, স্বল্প শিক্ষার্থী আর সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বকীয়তা দান করেছে। অর্ধশতাধিকেরও বেশি দেশের শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে, যার ফলে পোল্যান্ডের পাশাপাশি আমি একই সাথে আরো অনেক দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছি। সেই সাথে ভ্রমণ করার সৌভাগ্য হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশেও। ওয়ারশ’তে আসার পরে প্রথম অভিজ্ঞতা হলো হাড় কাপানো ঠাণ্ডা আর সেই সাথে পলিশদের ঊষ্ণ আতিথেয়তা। তাদের মার্জিত ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ, সততা এবং কর্ম তত্পরতা যে কোন মানুষকেই অভিভূত করবে। নারীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, নারী স্বাধীনতা বলতে যে শুধুমাত্র পোশাকের স্বাধীনতা বোঝায় তা কিন্তু নয়। পোশাক একটা উপকরণ মাত্র। পুরুষের অনুকরণে পোশাক পরাকেই স্বাধীনতা বলে না। এটা এক অর্থে নারীর নিজস্ব সত্ত্বাকে ছোট করা। নারীকে এগিয়ে যেতে হলে প্রথমে পরিবর্তন আনতে হবে তাদের চিন্তায়। হতে হবে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয়ী এবং কর্মঠ। আর শিক্ষা হলো অন্যতম মাধ্যম তা নতুন করে বলার কিছু নেই। শিক্ষার প্রসার ছাড়া আসলে কোন উন্নতিই সম্ভব নয়। যেমন একযুগ আগেও আমাদের দেশের নারীদের অবস্থান ছিল বর্তমানের চেয়ে নাজুক। যৌতুক প্রথা, বিবাহ বিচ্ছেদ, বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ, নারীদের উপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন আর আত্মহননের পথ বেছে নেয়া নারীদের সংখ্যা নিতান্তই কম ছিল না। আর এই সংখ্যাটা যে এখন নেই তা নয়, তবে সংখ্যাটা কমেছে। এর পেছনে কারণ হলো সামাজিক সচেতনতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। আর এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের নারীদের অবস্থানও একদিন পরিবর্তন হবে।