রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়ার প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে জানুয়ারি হতে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনসহ সকল নদীতে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও সুন্দরবনের ভিতরে মাছ ধরার পাস নিয়ে জেলেরা ডিমওয়ালা কাঁকড়া ধরছে অবাধে। দেশের অন্যতম রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে বর্তমানে জানুয়ারি হতে মার্চ মাস পর্যন্ত কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি, কদমতলা, কবাদক, কৈখালী ষ্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে জেলেরা মাছ ধরার পাস নিয়ে ডিমলে কাঁকড়া ধরছে। কাঁকড়ার পাস না থাকলেও প্রতিদিন বুড়িগোয়ালিনী খেয়া ঘাট এলাকায়, মুন্সিগঞ্জ বাজার, নওয়াবেকী বাজার, ভেটখালি ও হরিনগর বাজারে লাখ লাখ টাকার কাঁকড়া বিক্রয় করতে দেখা যায়।
গত সপ্তাহে সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪টি ষ্টেশন অফিস থেকে প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র জেলেকে ১ সপ্তাহের জন্য সাদা মাছ ধরার পাস ছাড়া হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু মাছের পাসধারী জেলেদের অধিকাংশই কাঁকড়া ধরার উপকরণ দোন, জালতি, আটল, কুচেমাছ সাথে নিয়ে গেছে বলে দেখা যায়।
হরিনগর স্লুইচ গেটের মুখ থেকে ১৫টি গাবুরার ৯নং সোরা এলাকা থেকে ২২টি নৌকা মাছ ধরার নামে কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেদক জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার সত্বে একাধিক জেলে জানান, কাঁকড়া ধরার পাস না দেয়ায় আমাদেরকে মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে যেতে হচ্ছে। এজন্য জন প্রতি ২শ’ টাকার পরির্বতে ৫শত টাকা আর বনের মধ্যে চেকে গিয়ে আর ২শ’ টাকা উপরে দিতে হচ্ছে। এছাড়া বনে আশপাশ এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য অফিস থেকে চুক্তি করলে পাস লাগে না বলেও জানায়।
সুন্দরবনের গহীনে অভয়রন্য নিষিদ্ধ এলাকায় কাঁকড়া প্রজনন মৌসুমের ডিমওলা কাঁকড়ার আস্তানায় হানা দেয়ায় প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। ষ্টেশনগুলোতে কথা বলে তারা জানান, মাছের পাস নিয়ে ভিতরে যেয়ে মাছ ধরছে না কাঁকড়া আমরা জানিনা। সুন্দরবনের প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তরিক হতে বনবিভাগকে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সুশীল সমাজ।
