আগের দিন অনুশীলনে কলা খেয়ে খোসাটা হাতে নিয়ে সাকিব সতীর্থদের বলছিলেন, ‘এটা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে মারবো। ভেতরে পড়লে আফগানিস্তান ৪০ রানে অলআউট, বাইরে পড়লে ৮০ রানের নিচে।’
কোথায় পড়েছিলো খোসাটা? সাকিব মুচকি হেসে বললেন, ‘ওরা ৭২ রান করে ফেললো। বুঝতেই পারছেন বাইরে পড়েছিলো। নইলে তো ৪০ রানে অলআউট হত।’
সাকিবের এই কথাবার্তা শুনে হাসিতে ফেটে পড়লেন সাংবাদিকরা। হাসিতে ফেটে না পড়লেও কৌতুকটা করতে পারার আনন্দে ঝলমল করতে থাকলো তার মুখ। জয়টা নিয়ে যতই কৌতুক করুন, এটা বেশ বোঝা গেল, এই একটা জয় আসলে কতোটা নির্ভার করে দিয়েছে সাকিব আল হাসানদের।
সাকিব নিজেও মানলেন এই জয়ে তারা যেমন খুশী, তেমনই স্বস্তি পেয়েছেন। একটা পাষান ভার যে বুক থেকে নেমে গেছে, সেটা স্বীকার করতে একটুও দ্বিধা করলেন না। তবে সেই সাকিবই বারবার বললেন, যতোটা চাপ মিডিয়ায় বা লোকেদের মুখে তৈরী হয়েছিল, তা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল না।
আগের গল্পটা শুনিয়ে নিজের কথা অন্তত বললেন, ‘এই ম্যাচটা নিয়ে একটু বেশীই আলোচনা হয়েছে। আফগানিস্তান যতো বড় দল, তার চেয়ে অনেক বেশী উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। তবে সত্যি বলি, আমরা জানতাম, খুব একতরফা ভাবে জিতবো আমরা। আমি নিজে অনেকদিন কোনো ম্যাচের আগে এতোটা রিল্যাক্স থাকি না, যতোটা এই ম্যাচের আগে ছিলাম। এটাতে খুব উপকার হয়েছে। চাপ একদমই আমাদের বিপদে ফেলতে পারেনি।’
এই নির্ভার থাকতে পারা নিশ্চয়ই জয়ের আসল রহস্য। তবে মাঠে সে জন্য অনেক ভালো ক্রিকেটও খেলতে হয়েছে। মাঠের খেলায় সাকিব আলাদা করেই কয়েকটা পয়েন্টের কথা বললেন—মাশরাফির প্রথম বলে উইকেট, দারুণ ফিল্ডিং, উইকেটের একটু সহায়তা এবং স্পিনারদের ফর্মে ফেরা; এই ব্যাপারগুলোকেই ম্যাচ জয়ের পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করছেন ম্যাচসেরা সাকিব।
মাশরাফির কথাটা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বললেন, ‘মোমেন্টটা খেলায় খুব জরুরী। মাশরাফি ভাই প্রথম বলেই উইকেট নেয়ার পর পুরো ওভারটাই অসাধারণ বল করলেন। আর ওটাই বাকীরা টেনে নিয়ে গেছে।’
মাশরাফির পরই সাকিব কৃতিত্ব দিচ্ছেন ফিল্ডারদের। মাঝে কিছুদিন ফিল্ডিংয়ে বড় গড়বড় করতে থাকা বাংলাদেশ গতকাল ক্যাচিং, থ্রোয়িং; সবগুলোতেই বেশ চমকালো। আর সাকিব বলছেন, এটাই দলকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে, ‘যদিও একটা ক্যাচ মিস হয়েছে। পরের বলেই সাব্বির আবার অসাধারণ ক্যাচ নিয়েছে। আসলে আরও কয়েকটা ভালো ক্যাচ হয়েছে, দুটো অসাধারণ থ্রো হয়েছে। ফিল্ডিংটা ভালো হলে যেটা হয়, দলের সবাই মানসিকভাবে খুব চাঙ্গা হয়ে যায়। সেটাই হয়েছে।’
আর শেষ বেলায় আসল নায়কদের কথাটা বলে দিলেন সাকিব—হ্যা, স্পিনারদের কথা। এটা স্বীকার করলেন যে, উইকেটটা একটু সহায়তা করেছে, ‘উইকেট আমাদের পক্ষে ছিল। তবে আমাদের স্পিনাররা সবাই সেটাকে কাজে লাগানোর মতোই বল করেছে। রাজ ভাই, রিয়াদ ভাই দারুণ বল করেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এই দারুণ জয়টা পেয়েছি।’
