১০ হল উদ্ধারের দাবিতে জবিতে বুধবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২২:০১
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হলের দাবিতে মহাসমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে বেদখলে থাকা ১০টি হলও আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামী বুধবার থেকে লাগাতার ছাত্র ধর্মঘট করবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মহাসমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার আদেশ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান ছাত্রলীগের সভাপতি এফএম শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বহিষ্কার আদেশ ও মামলা প্রত্যাহারসহ হলের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও বুধবার থেকে লাগাতার ছাত্র-ধর্মঘট পালন করা হবে। সকাল ১০টায় মূল কর্মসূচি শুরু হয়। হল উদ্ধারের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শিল্পী ফকির আলমগীর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। এছাড়া সরকারি কবি নজরুল কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল মহাসমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে। এ সময় বক্তারা বলেন, সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু দেয়নি সুযোগ-সুবিধা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সুযোগ-সুবিধা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হল জবি পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এফএম শরিফুল ইসলাম। স্বতন্ত্র আন্দোলন করবেন শিক্ষকরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেদখলে থাকা হল উদ্ধার ও শিক্ষকদের আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে স্বতন্ত্রভাবে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সরকার আলী আক্কাস। তিনি বলেন, শিক্ষকরা আজ আতংকিত। তাদের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। তবে হল উদ্ধার ও শিক্ষকদের আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এসময় তিনি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমের লিখিত অভিযোগের সারমর্ম সাংবাদিকদের মাঝে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী শিক্ষককে খুন করার হুমকি দেয় তার নেতৃত্বে কোন আন্দোলনে শিক্ষকরা যাবেন না। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোন বাধা দেয়া হবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি। এসময় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। তিনি বলেন, আগামী ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, ২৩ মার্চ ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা-সমাবেশ এবং ২৬ মার্চ পুরান ঢাকার এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল বালা, নীল দলের সভাপতি ড. মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেয় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। এসময় তারা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সোয়া ৯টার দিকে জবি প্রক্টর ড. অশোক কুমার সাহার নেতৃত্বে তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শিক্ষকরা। বিষয়টি কোতয়ালী থানার ওসি ও লালবাগ জোনের ডিসিকে জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন জবি প্রক্টর। তদন্ত কমিটি গঠন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: সৈয়দ আলমকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাসনা হেনা বেগমকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।