আবির রঙে রঙিন হল দোল পূর্ণিমা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২২:১৯
কাল ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রঙে রঙে রঙিন হয়ে ওঠার দিন। ফাল্গুনের গৌরপূর্ণিমা তিথিতে গতকাল আবিরে-আনন্দে,নৃত্যে,পূজা-হোমযজ্ঞে পালিত হলো হিন্দুদের ধর্মীয় উত্সব দোল পূর্ণিমা। দ্বাপর যুগ থেকে শ্রীকৃষ্ণের এ দোলযাত্রা বা দোল উত্সব চলে আসছে। গতকাল রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরের রঙে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয় বিভিন্ন স্থানে। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। সবচেয়ে বড় উত্সব হচ্ছে কুষ্টিয়ার লালন আখড়ায়। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এ উত্সবে ভক্তরা সৃষ্টিকর্তার কাছে ন্যায়ের বিজয় ও অন্যায়ের বিনাশ প্রার্থনা করেন। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, দোল পূর্ণিমায় বৃন্দাবনের নন্দ কাননে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে তার সখী রাধিকা দেবী ও গোপীগণের সাথে রঙয়ের খেলায় মেতেছিলেন। রাধা-কৃষ্ণ দোল উত্সব করতেন পুষ্পরেণুর মাধ্যমে । সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণু ‘আবির’ নামের লাল রঙের এক ধরনের পাউডারে রূপান্তরিত হয়েছে। বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উত্সবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উত্সবটি সম্পর্কযুক্ত। আবার, এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন বলে একে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করেন বৈষ্ণব বিশ্বাসীরা। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে দোল উত্সবের আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। কোথাও কোথাও ফাল্গুন শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে দোল উদযাপন উপলক্ষে ‘বুড়িরঘর’ বা ‘মেড়া পোড়ানো’ হয়। সাধারণত বিষ্ণু বা কৃষ্ণমন্দির কিংবা ধামে খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এ বিশেষ বহ্নি-উত্সবের আয়োজন করা হয়। পূজা অনুষ্ঠানের সময় উলুধ্বনি, কাঁসার ঘণ্টা ও পুরোহিতের ঘণ্টা ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও কয়েক দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে থাকে- হরি লীলামৃত ও গুরু চাঁদ চরিতপাঠ, বৈঠকী কীর্তন, হরি সঙ্গীত ও মহাসঙ্গীত। মূলত: শাখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বাংলাবাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ রাজধানী ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় দোল উত্সব উদযাপিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও হয়েছে হোলি উত্সব। এই উত্সবটি ছোটদের কাছে বেশি রঙিন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ঘটা করে এ উত্সব উদযাপন করে।