রাশিয়ার সঙ্গে মিশে যাবে না কি স্বায়ত্বশাসিতের মর্যাদা নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গেই থাকবে সেই প্রশ্নে গতকাল রবিবার গণভোট অনুষ্ঠিত হলো ক্রিমিয়ায়। তবে এটা যে কেবল ক্রিমিয়ার স্বার্থ জড়িত তা নয়। এই ভোট নির্ধারণ করে দেবে বিশ্বের দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে না কি দেশ দুটির মধ্যে আরো দূরত্ব সৃষ্টি হবে সেই বিষয়টি। ইতোমধ্যেই রাশিয়া গণভোটকে সমর্থন দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘অবৈধ’ বলেছে। ইউক্রেনিয়ান এবং মুসলিম তাতার গোষ্ঠীরা এই ভোটকে বর্জন করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ক্রিমিয়ার রাজধানী সিমারপোলসহ অন্যান্য এলাকায় ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। সিএনএন জানায়, তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচন কর্মকর্তা মিখেলো মালিশেভ জানিয়েছে, ছয় ঘন্টার মধ্যেই ৪৪ শতাংশের বেশি ভোট প্রদান করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে। নেঁচে-গেয়ে ভোটারদের বিনোদন দেওয়া হয়। মাইকে ভোট দিতে আসার জন্যও আহবান জানানো হয়।
ব্যালট পেপারে দুটি প্রশ্ন ছিল। একটি হলো, ভোটাররা রাশিয়ার সঙ্গে মিশতে চায় কি না। দ্বিতীয়টি ছিল, তারা ১৯৯২ সালের মর্যাদা অনুযায়ী ইউক্রেনের সঙ্গে থাকতে চায় কি না। প্রায় ১৫ লাখ ভোটার ভোট প্রদান করতে পারে। ফলাফল সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। তবে সিএনএন জানিয়েছে, ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছে যে, জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষেই ভোট দিবেন। যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, রুশভাষীরা রাশিয়ার সঙ্গে যাওয়ার পক্ষেই ভোট দিবেন। ক্রিমিয়ার প্রধানমন্ত্রী সেগেই আকসিওনোভ সবাইকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। নির্বাচন কমিশনের প্রধান এসভাটলানা ক্যালিসেতকায়া বলেন, এই নির্বাচন সবচেয়ে জীবন্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনে রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মূলত সংকট সৃষ্টি হয়। ক্রিমিয়ায় বেশিরভাগই রুশপন্থী জনগোষ্ঠী। ইউক্রেনের স্বায়ত্বমাসিত উপদ্বীপটিতে রাশিয়ার প্রভাব রয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে রুশ সৈন্যরা অবস্থান করছে। ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ মূলত রুশ সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে সমর্থন দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আর রাশিয়া চাচ্ছে ক্রিমিয়া পুনরায় তাদের সঙ্গে মিশে যাক। ১৯৫৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে দেয়। ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়ার মধ্যে আবার ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
