তাদের হাতে কয়েকজন ভালো স্পিনার আছে। তারপরও উপমহাদেশের কন্ডিশনে একটা সাফল্য পাওয়া যে সহজ হবে না, এটা দক্ষিণ আফ্রিকানরা ভালোই বোঝেন। তাই গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফাপ ডু প্লেসিস বললেন, তাদের আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতাটাই এবার কাজে লাগাতে চান।
এই কন্ডিশনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘অবশ্যই এখানে খেলাটা চ্যালেঞ্জিং। কন্ডিশন উইকেট আমাদের পুরোই উল্টো। কিন্তু আমাদের অনেক ক্রিকেটার নিয়মিত আইপিএল খেলে, বাংলাদেশের লিগেও খেলেছে অনেকে। এই কন্ডিশন তাই একদমই অচেনা নয় আমাদের জন্য।’ কন্ডিশনের আলোচনা বাদ দিয়ে নিজের দলের ওপর দারুণ বিশ্বাস ডু প্লেসিসের। বলছেন, তারা নিজেদের খেলাটা খেললে কারো পক্ষেই তাদের হারানোটা সোজা হবে না, ‘যে স্কোয়াড আমাদের আছে, তাতে আমাদের বিশ্বাস আছে পুরোপুরি। নিজেদের দিনে সব ঠিকঠাক করতে পারলে আমাদের হারানো কঠিন হবে। তবে টুর্নামেন্টের ধরনটাই হলো প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ৬-৭টি দল আছে, যারা টুর্নামেন্ট জিততে পারে।’
বারবার নিজেদের শক্তি বোঝাতে গিয়ে সাম্প্রতিক ফলাফলের উদাহরণ দিয়ে আত্মবিশ্বাসী কথা বললেনও এই মারকুটে ব্যাটসম্যান, ‘শ্রীলঙ্কায় গিয়ে আমরা শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছি। ভালো স্পিনার আছে আমাদের, পাকিস্তানের বিপক্ষেও ভালো করছি। অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে স্পিনাররা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
ডু প্লেসিস খুব ভালো করেই জানেন, এখানে ভালো করতে গেলে তাদের স্পিনারদেরই জ্বলে উঠতে হবে। তাই বলছিলেন, ‘ইমরান তাহির দুর্দান্ত বোলিং করছে। অ্যারন ফাঙ্গিসো আছে, জেপি ডুমিনিকেও ব্যবহার করতে পারি। আমাদের স্পিন আক্রমণ খারাপ না। আর শুধু স্পিনই শেষ কথা নয়, ফাস্ট বোলারদেরও অনেক ভূমিকা থাকবে।’
তবে সবকিছুর পরও দক্ষিণ আফ্রিকার ‘শত্রু’ তো আসলে তারা নিজেরাই। প্রতিটি বড় আসরে ভুতূড়ে ভঙ্গিতে বাদ পড়ায় বিখ্যাত হয়ে গেছে অমিত সম্ভাবনাময় দলটি। নিজেদের এই চোক করা সম্পর্কে ডু প্লেসিসের ভিন্ন মত আছে, ‘আমি প্রতিটি দিন হিসেবে দেখতে চাই। আপনাদের অনেকের কাছে যেটা ‘চোক’, আমার কাছে সেটি সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে না পারা। নির্দিষ্ট ওই দিনটিতে যদি আমরা ভালো খেলতে না পারি, হারতেই হবে। আমরা এড়িয়ে যেতে পারি, নাও যেতে পারি। কিন্তু নির্দিস্ট দিনটিতে ভালো খেলাটাই আসল।’
