ফুলতলা উপজেলার রেখা বেগম ছয় মাস যাবত্ প্রচণ্ড কাশিতে ভুগছিলেন। একথা শুনে পথের বাজারস্থ ব্র্যাকের ডটস কেন্দ্রের সেবিকা মাজেদা বেগম তার বাড়িতে গিয়ে হাজির। মাজেদা বেগম তার কফ সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। কফ পরীক্ষার পর রেখার কফে যক্ষ্মার জীবাণু ধরা পড়ে। ভয় পেয়ে যান রেখা। বাঁচার আশা ছেড়ে দেন তিনি। সেবিকা মাজেদা আপা তাকে সাহস দিয়ে বলেন, নিয়ম মেনে ওষুধ খেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন। এরপর থেকে তিনি প্রতিদিন সকালে রেখার বাড়িতে এসে তাকে ওষুধ খাইয়ে যেতেন। ছয়মাস ওষুধ খাওয়ার পর রেখা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
রেখা বেগমের মেয়ে মুন্নী (১৮) খুলনার সরকারি বিএল কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মুন্নীরও তিন মাস আগে ধরা পড়ে যক্ষ্মা। সেবিকা মাজেদা বেগমের কাছে তিনিও নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ।
সেবিকা মাজেদা বেগম বলেন, গত চার বছরে আমার তত্ত্বাবধানে ওষুধ সেবন করেছেন ১৬ জন। তারা সবাই সুস্থ হয়ে গেছেন।
ব্র্যাকের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, ব্র্যাক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির আওতায় খুলনা জেলায় ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৯৮১ জন যক্ষ্মা রোগী চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে চিকিত্সাধীন রোগী আছে ১ হাজার ৭৬ জন। এ পর্যন্ত ডটসের মাধ্যমে চিকিত্সা দিয়ে ১২ হাজার ৬৬০ জন রোগীকে রোগমুক্ত করা হয়েছে।
ব্র্যাকের খুলনা জেলা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ব্র্যাক ২০০৪ সাল থেকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে কাজ করে আসছে। বর্তমানে খুলনা জেলার নয় উপজেলায় ডটস প্রোভাইডার হিসাবে ব্র্যাকের মোট ১ হাজার ৩১০ জন স্বাস্থ্যসেবিকা কর্মরত আছে। এছাড়াও দুর্গম এলাকায় ৩৬জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩৬টি কফ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. ইয়াসীন আলী সরদার বলেন, প্রতি মাসে ব্র্যাকের সহায়তায় ১৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে এবং গ্রাম পর্যায়ে ২২৫টি কফ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। সেখানে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন।
