জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল সারাদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাজধানীসহ সারাদেশে সারাদিন ধরেই বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে।
বাংলা একাডেমি :প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের অধিষ্ঠান নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের পরিপূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী মহত্ লক্ষ্যে ধাবিত ছিল তাঁর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনৈতিক অভিযাত্রা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতায় ধাপে ধাপে নিজেকে এবং তাঁর জাতিকে নির্মাণ করেছেন। গণতান্ত্রিক চেতনা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের মর্মমূলে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে সংগ্রামী ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছিলেন। গতকাল সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশুদিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিকালে একাডেমির রবীন্দ্রচত্বরে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বাঙালিকে স্বাধীনতার বৃহত্তর অভিমুখে সংঘবদ্ধ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর পঁচাত্তরে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার কারণে এখন পর্যন্ত সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে।
শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু যুগের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবরূপ দান করে ইতিহাসে অমরত্ব অর্জন করেছেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত হয় সুভাষ সিংহ রায়ের পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোন’। এই পর্বে সমবেত শিশু-কিশোরদের সাথে বঙ্গবন্ধুর গল্প করেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, শমী কায়সার এবং ডা. আবদুন নূর তুষার।
শিল্পকলা একাডেমি :বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় জাতির পিতাকে। আয়োজনের প্রথমপর্বে ছিল ‘৭ই মার্চের ভাষণ’- এর উপর আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন।
অস্ট্রেলিয়ায় ১০ শিল্পীর চিত্রকলা প্রদর্শনী :আগামী ২২ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বাংলাদেশের ১০ শিল্পীর ‘জন্মভূমির গান’ শিরোনামে দলগত চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। পরে প্রদর্শনীটি সিডনি ও ক্যানবেরাতেও আয়োজিত হবে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরাও অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। মেলবোর্নে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে ন্যাশনাল গ্যালারি অব অস্ট্রেলিয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যালান জেমস মেয়ার্স, ২৯ মার্চ সিডনির কুইন স্ট্রিট গ্যালারিতে সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর ও অ্যাকশন এইড অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট জন ডোওড এবং পহেলা এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার অ্যান হার্ডিং কনফারেন্স সেন্টারে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনার লে. জেনারেল মাসুদউদ্দীন চৌধুরী (অব.) প্রধান অতিথি হিসাবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।
প্রদর্শনীতে ১০ জন শিল্পীর ৪০ টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন: কাইয়ূম চৌধুরী, তাহেরা খানম, রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, আব্দুস শাকুর শাহ, ফরিদা জামান, রণজিত্ দাস, রোকেয়া সুলতানা, কনকচাঁপা চাকমা এবং মোহাম্মদ ইকবাল।
