স্বামীর পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন রাজধানীর তুরাগের বালু ব্যবসায়ী মনির হোসেন। একই ঘটনায় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারও গুরুতর জখম হয়েছেন। রবিবার গভীর রাতে তুরাগের নলভোগ এলাকায় নিজের বাসায় কলহের এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী পাল্টাপাল্টি ছুরিকাঘাত করে। এতে স্বামী মনির মারা যান। পুলিশ গতকাল সকালে মনিরের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। তার শ্বাসনালী, ঘাড়, দুই গালসহ দেহের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে ২৪ বছর বয়সী গৃহবধু ইয়াসমিনের শরীরেও একাধিক আঘাত রয়েছে। ইয়াসমিন বর্তমানে অ্যাপোলো হাসপাতালে আইসিউতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
মনিরের চাচা রূপ মিয়া জানান, ৮ বছর আগে বালু ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক ঝামেলা শুরু হয়। দু’জন একে অপরকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করতো। এ দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের বড় ছেলে ফারদিনের বয়স পাঁচ বছর। অপর ছেলের বয়স তিন বছর। গত রবিবার রাতে মনিরের দুই সন্তানের চিত্কার শুনে পাশের ফ্ল্যাট থেকে তারা মনিরের ফ্ল্যাটে ছুটে যান। ওই সময় দু’জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রথমে তাদের উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে ভোর পাঁচটার দিকে তাদের অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে মনিরকে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
তুরাগ থানার ওসি আবীর মোহাম্মদ হোসেন জানান, রবিবার রাত দেড়টার দিকে মনির বাসায় ফেরেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মনিরকে স্ত্রী ইয়াসমিন ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। মনিরও স্ত্রীর কাছ থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে পাল্টা আঘাত করে। এমন দৃশ্য দেখে তাদের দুই ছেলে চিত্কার করলে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে থাকা মনিরের স্বজনেরা ছুটে আসেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, মনিরের পরকীয়া রয়েছে বলে তার স্ত্রী সন্দেহ করে আসছিলেন। একইভাবে মনিরও স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। এর আগে কয়েক দফা দু’জনের ঝামেলা মেটাতে সালিশ বৈঠকও হয়েছে। এসব ঘটনার জেরেই গতকাল এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে মনিরের স্ত্রী সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরিবারের অপর সদস্যদের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলেছে।
