লড়াইটা ছিল এক সহযোগী সদস্য ও এক পূর্ণ সদস্য দেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের দাপট আর ফল দেখে কে পূর্ণ সদস্য আর কে সহযোগী, সেটা বোঝার উপায় ছিল না। বরং ‘পূর্ণ সদস্য’ জিম্বাবুয়েকে নাকাল করে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নিলো আয়ারল্যান্ড।
এটা একইসাথে যেমন ‘কঠোর’ এক সত্যকে প্রকাশ করলো, অন্যদিকে সামনে নিয়ে এলো অনেক ভেতরের আলোচনা। কারণ, অবকাঠামো, বোর্ডের সাথে দ্বন্দ্ব আর পারফরম্যান্স মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট তার পুরনো চেহারা হারিয়ে ফেলেছে বহুকাল হলো। আর সহযোগী দেশ হয়েও হাঁটি হাঁটি পায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান জোরালো করে তুলছে আয়ারল্যান্ড।
গতকাল সোমবার সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কঠোর সত্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে আনলো আয়ারল্যান্ড। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে আইরিশরা তিন উইকেটে হারালো জিম্বাবুয়েকে।
১৬৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮.২ ওভারে ৮০ রান তুলে ফেলে দুই আইরিশ ওপেনার অধিনায়ক উইলিয়াম পোটারফিল্ড ও পল স্টার্লিং। এর পর থেকে শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের জয় নিয়ে কোন শঙ্কাই ছিল না। কিন্তু শেষ ওভারে এসেই শুরু হল নাটক।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল চার রান। এক বোল্ড আর এক রান আউটের খেসারতে শেষ বলে গিয়ে দরকার পড়লো এক রান। কিন্তু এবারও বল ব্যাট লাগাতে পারলেন না ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কুস্যাক। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে তিনাশে পানিয়াঙ্গারার বল চলে যাওয়ার সাথে সাথেই স্ট্রাইক বদলে নেয়ার জন্য দৌড়ালেন দুই ব্যাটসম্যান। উইকেট রক্ষক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের থ্রোও লাগলো না স্ট্যাম্পে। ফলাফল, নতুন ইতিহাস গড়লো আয়ারল্যান্ড।
৬০ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন পল স্টার্লিং। এছাড়া পোটারফিল্ড ৩১ ও অ্যান্ড্রু পয়েন্টার ২৩ রান করেন। পানিয়াঙ্গারা নিয়েছেন চারটি উইকেট।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক টেলরের ৫৯ রানের উপর ভর করে পাঁচ উইকেটে ১৬৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। জর্জ ডকরেল ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন দুটি করে উইকেট নেন।
