নওগাঁর মান্দা থানায় আইনজীবীর সহকারীকে বেদম প্রহার

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
নওগাঁর মান্দায় দাবিকৃত ঘুষ না দেয়ায় থানার ভিতরে দীপেন কুমার সরকার (৩২) নামে নওগাঁ জজ কোর্টের এক আইনজীবীর সহকারীকে হকিষ্টিক দিয়ে এসআই শফিকুল রহমান বেদম মারপিট করেছেন। ঘটনা জানাজানি করা হলে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওই আইনজীবী সহকারীর নিকট থেকে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শনিবার রাতে দীপেনের চাচা এ্যাডভোকেট বিশ্বজিত সরকার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। পুলিশের নির্যাতনের শিকার দীপেন উপজেলার সাহাপুকুরিয়া গ্রামের দীনেশচন্দ সরকারের ছেলে। শরীরে বিভিন্নস্থানে দাগ নিয়ে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছে। এডভোকেট বিশ্বজিত সরকার জানান, মান্দা থানায় সাইকেল চুরির একটি মামলায় পাশের রাজশাহী জেলার কেশরহাট এলাকার গোলাম রব্বানীকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারী অফিসার এসআই শফিকুর রহমান। তাকে ১১ মার্চ ১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মারপিট করেন। ২০ হাজার টাকা দিলে মারপিট করা হবে না বলে বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। গোলাম রাব্বানীর দরিদ্র পিতা আব্দুর রহমান আইনজীবী এ্যাডভোকেট বিশ্বজিত সরকারের মান্দা ফেরিঘাট চেম্বারে যান। আসামির বাবা থানা চিনতে না পারায় দীপেন ওইদিন রাত ৮টার দিকে তাকে নিয়ে থানায় গেলে এসআই শফিকুর ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দীপেন ২ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে এসআই শফিকুর রহমান হকিষ্টিক দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দীপেনকে। এসআই শফিকুর রহমান দীপেনকে শারীরিক নির্যাতন ও ঘুষ দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, আসামির লোকজনের নিকট থেকে আমার নাম করে টাকা নিয়ে আমাকে ১ হাজার টাকা দেয়ার চেষ্টা করলে আমি তাকে আটক করি এবং আইনজীবী সহকারীর পরিচয় দেয়ায় পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই। মান্দা থানার ওসি আব্দুল্লাহ হেল বাকী বলেন, দীপেনের জখম দেখেছি। দীপেন অন্য কোথাও শরীরের এমন দাগ করেছে কি না তা তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।