চট্টগ্রামসহ বিশাল অঞ্চলে উদ্বেগজনক বায়ু দূষণ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫২
চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যাপক এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত বায়ু দূষণে আক্রান্ত এটা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরের বিভাগের দুইভাগ সময় দেশের বিশাল এলাকার বায়ুর মানমাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণের কারণে শিশুসহ সববয়সের মানুষ মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে শহরের তুলনায় গ্রামের দূষণমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম। তাছাড়া বায়ু দূষণ জনবহুল, অপরিচ্ছন্ন এবং শিল্প কলকারখানা এলাকায় বেশী। বায়ুর মানমাত্রা পরীক্ষা করে দেখা যায়, বছরের শীতকালে বায়ুর দূষণ সবচেয়ে বেশি। আবার বর্ষাকালে বায়ুর দূষণ সবচেয়ে কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০ দিন বায়ুর দূষণমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। বায়ুতে থাকা সাসপেন্ডেন্ট পার্টিক্যাল মেটার বা প্রলম্বিত বস্তুকণা (এসপিএম) প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম সহনীয় মাত্রা হিসাবে ধরা হয়। দিনের ৮ ঘণ্টা সময় ধরে বায়ুর মধ্যে ২০০ মাইক্রোগ্রামের কাছাকাছি এসপিএম থাকলে বায়ুর মানমাত্রা সহনীয় বলা যাবে। কিন্তু বছরের বিরাট অংশে এই মানমাত্রার বায়ু পাওয়া যায় না। আবার অনেক সময় বিশেষ করে কিছু সময় বৃষ্টি হলে বায়ু দূষণের মানমাত্রা স্ট্যান্ডার্ড লেভেল থেকেও অনেক কমে যায়। অর্থাত্ যাকে নির্মল বাতাস বলা যেতে পারে। চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ও ফয়’স লেক এলাকায় বায়ুর মানমাত্রা পরীক্ষার জন্য দুইটি কেন্দ্র রয়েছে। সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরীক্ষা কেন্দ্র দুইটির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বছরের নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বায়ুর এসপিএম সর্বোচ্চ প্রতি ঘনমিটারে ৪৭০ মাইক্রোগ্রাম। ওই সময়ে সর্বনিম্ন এসপিএম প্রতি ঘনমিটারে ২৮০ মাইক্রোগ্রাম। অপরদিকে মে মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বায়ুর মানমাত্রা পরীক্ষা করে পাওয়া যায়, বায়ুতে সর্বোচ্চ এসপিএম প্রতি ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম। এ সময়ের মধ্যে গড় এসপিএম প্রতি ঘনমিটারে ১৮০ মাইক্রোগ্রাম। সার্বক্ষণিক বায়ুর মান পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের মতে মে মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায়শই বৃষ্টি থাকায় বায়ুর মানমাত্রা অন্য সময়ের তুলনায় ভাল থাকে। গত ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি নগরীতে কম-বেশি বৃষ্টি হয়। এই চারদিনের বায়ু পরীক্ষা করে দেখা যায়, কোন এক সময় বায়ুর এসপিএম প্রতি ঘনমিটারে ৫০ এর নিচে নেমে যায়। আবার প্রখর রোদের দিন এক ঘণ্টার পরীক্ষায় দেখা যায়, বায়ুর এসপিএম প্রতি ঘনমিটারে ৪৩০ মাইক্রোগ্রামে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শীতকালে খারাপ আবহাওয়া বিশেষ করে বায়ু প্রবাহ বেশি থাকলে ধূলিকণা এবং ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে বায়ুর মানমাত্রা খারাপ পাওয়া যায়। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বায়ুর পরীক্ষা করে দেখা যায়, যে সকল স্থানে যানবাহন ও লোক চলাচল বেশি ওই সকল স্থানের বায়ুর মানমাত্রা খারাপ। একইভাবে শিল্প এলাকায় বায়ুর মানমাত্রা সাধারণ এলাকার মানমাত্রার অবস্থা অনেক খারাপ। নগরীর একটি স্টিল মিল এলাকায় বায়ু পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর এসপিএম এবং সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেনের অক্সাইডের মাত্রাও সাধারণতঃ অনেক বেশী পাওয়া যায়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সালের সংশোধিত তফসিল-২ এ বায়ুর মানমাত্রা পরীক্ষায় বায়ুতে থাকা কার্বন মনোক্সাইড, লেড, নাইট্রোজেনের অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, প্রলম্বিত বস্তুকণা, বস্তুকণা ও ওজনের যে সহনীয় মাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বায়ুর মানমাত্রা বছরের অধিকাংশ সময়ে বেশি দেখা যায়। যা মানবদেহসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।