বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের বড় সন্ন্যাসীবাজার এখন এক সন্ত্রাসের জনপদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী মল্লিকের বেড়, প্লানের বাজার ও মাদারদিয়া গ্রামেও।
রবিবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, ভাংচুরের পর এলাকায় মোতায়েন পুলিশের উপস্থিতিতেই সোমবার সকালে আবার লুট হয়েছে বাজারের দুটি দোকান। এলাকা ছেড়েছেন এই চার গ্রামের বিএনপি সমর্থক পুরুষেরা। পোড়া ভিটে আগলে খোলা আকাশের নিচে এক কাপড়ে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পরিবারের আতঙ্কিত নারী ও শিশুরা।
গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত রামপাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের মাঝে বিরোধের জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় বড় সন্ন্যাসী বাজারে কতিপয় ব্যক্তি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তালুকদার নাজমুল কবির ও তার কয়েক অনুসারীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। তারা ইউপি চেয়ারম্যানের একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনার পর উত্তেজিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা এলাকার বিএনপি সমর্থক অন্তত দশটি পরিবারের বসতভিটা জ্বালিয়ে দেন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বিএনপি সমর্থকদের আরও কয়েকটি বাড়ি ও বড় সন্ন্যাসী বাজারের অন্তত ১২টি দোকান। প্রতিশোধ নিতে এলাকায় অন্তত দুটি বাড়ি প্রতিপক্ষ জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এদের মধ্যে মাদারদিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী শেখ আওয়ামী লীগ সমর্থক। অন্যজন মল্লিকের বেড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম। সোমবার সকালে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বড় সন্ন্যাসী বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলিম হাওলাদারের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের খোয়া যাওয়া শর্টগানটি উদ্ধার করেছে।
সোমবার সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ন্যাসী বাজারের দোকানপাট বন্ধ। এলাকায় থমথমে ভাব। পুলিশ বাজার পাহারা দিচ্ছে। ভয় আর আতঙ্কে গা-ঢাকা দিয়েছেন এলাকার বিএনপি সমর্থক পুরুষরা।
