১৬৭ উপজেলায় চলছে প্রচারণা লড়াই

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৭
চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ১৬৭ উপজেলায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে দিন-রাত প্রচারণার মাঠে রয়েছেন দুই হাজার ৩৬৫ জন প্রার্থী। আগামী ২৩ মার্চ ৯৩ ও ৩১ মার্চ ৭৪ টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। নানামুখী শ্লোগান, প্যারোডি গান, মাইকিংয়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলাগুলো। প্রচারণায় নানা চমক দেখিয়ে ভোটারদের মন জয়ের প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আবার কোন কোন প্রার্থী ভোট কারচুপির আশংকাও করছেন। তারা বলছেন, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে যেরকম সহিংসতা হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে সামনের দু’ধাপের নির্বাচন করার কোন অর্থই থাকবে না। এদিকে নির্বাচনী সহিংসতার সংস্কৃতি ফিরে আসার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেই দায়ী করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, দলীয় নেতাকর্মীরা শুধু নয়, প্রশাসনও কমিশনের নির্দেশ সঠিকভাবে মানছে না। এবার সহিংসতায় জড়িত প্রার্থী ও ইসির নির্দেশ না মানা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইসি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের গোলমাল হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকার সব ডিসি-এসপিদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে সহিংসতা রোধে ইসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত তিনটি ধাপে ছোটখাটো সহিংসতা হলেও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতার সুযোগ নেই। কমিশন আগের চেয়ে এখন বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এদিকে উপজেলা নির্বাচনের শেষদিকে এসে শক্তি প্রয়োগে পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলগুলোও। দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় এই নির্বাচনেও জাতীয় ইস্যুগুলো সামনে নিয়ে আসছেন তারা। সব মিলিয়ে নির্বাচনী এলাকাগুলোর ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উত্সব বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি প্রচারণায় আচরণবিধি লংঘনের অনেক অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো উপজেলায় পেশিশক্তির প্রদর্শন ও ভোটারদের অবৈধ পন্থায় প্রলোভন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। টাকা দিয়ে ভোট কেনা, ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো, ধর্মের ব্যবহারসহ নানা ঘটনাও ঘটছে। দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা কম হচ্ছে না। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারও করা হচ্ছে। আবার কমিশনেও আসছে নানা ধরনের অভিযোগ। নির্বাচনে এসব অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনকারীদের তাত্ক্ষণিক সাজা দিতে প্রতি উপজেলায় একজন জুডিশিয়াল ও চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রচার-প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী যাতে আচরণবিধি লংঘন না করেন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। কেউ বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলেই তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসি সূত্র জানায়, গত ৭ মার্চ চতুর্থ ধাপে ৯৩ উপজেলায় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আইনানুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারেন প্রার্থীরা। এই ধাপের নির্বাচনে লড়ছেন ১ হাজার ২৮৭ জন। চেয়ারম্যান পদে ৪৪৭, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১৯ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩২১ জন। তারা ২১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ৩১ মার্চ পঞ্চম দফায় ৭৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই দু’ধাপের ১৬৭ উপজেলার মধ্যে দু’টি উপজেলার নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চিয়তা আছে। হাইকোর্টের আদেশে দু’টি নির্বাচন স্থগিত আছে। যদিও কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। পঞ্চম ধাপের ৩৫ জেলার ৭৪ উপজেলা নির্বাচনে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৬০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন প্রার্থীর গত ১৩ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এই ধাপে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির তুলনায় একক প্রার্থী বেশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ৪৩টিতে। আর বিএনপির একক প্রার্থী ৩৭টিতে।