‘আমি বিতর্কের তানিশা’

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ১৮:৩৫
প্রি য় মু খ ....................... তানিয়া সুলতানা। ডাক নাম তানিশা। শৈশব কেটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। স্বভাব একটু গম্ভির তবে রাগটা একটু বেশি মেয়েটার। বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম। তানিশার দুই বোন এক ভাই। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়া ছাড়া কিছুই বোঝে না মেয়েটি। পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছেন। স্কুল কলেজে বরাবরই প্রথম স্থান ধরে রেখেছিলেন। ২০০৯ সালে এসএসসি এবং ২০১১ সালের এইচএসসি পাস করেছেন। দুটোতেই পেয়েছেন জিপিএ ৫। পড়ছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে। তানিশা স্বপ্ন দেখেন আকাশ ছোঁয়ার। সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়েটি। তানিশা তার ভিতরের প্রতিভাকে বিকশিত করতে চান। একজন ভাল বিতার্কিক হবার চেষ্টা করছেন। স্টামফোর্ড ডিবেট ফোরাম আয়োজিত ৬ ফ্রেশারস ডিবেট প্রতিযোগিতায় তানিশার দল ‘প্রতিবিম্ব্ব’ চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় ফাইনালে বেষ্ট স্পীকার এবং টুর্নামেন্টের সেরা বক্তা নির্বাচিত হন তানিশা। জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার আছে তানিশার অর্জনে। ২০০৭ সালে জাতীয় শিশু রচনা প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করেছিলেন। জীবনের লক্ষ্য বড় মাপের ফার্মাসিস্ট হবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৩.৯২। তানিশার প্রিয় মানুষ তার মা। মায়ের সহযোগিতায় জীবনকে রঙ্গিন করবেন এমনটাই ইচ্ছে। তানিশা বলেন, মেয়েদের অনেক পিছুটান আছে, তার জীবনেও হয়, তা দূর করে সামনে এগিয়ে যাবার তীব্র মনোবল আছে। তাকে সব বাধা দূর করার জন্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তার মা। কথা বলার সময় মায়ের একান্ত প্রচেষ্টার কথা জানান মেয়ে তানিশা। নারী মুক্তির প্রথম এবং প্রধান শর্ত শিক্ষা। পিএইচডি করার জন্য অস্ট্রেলিয়া যাবার ইচ্ছা পোষণ করেন তানিশা। উচ্চ শিক্ষা শেষ করে দেশের কল্যাণে কাজ করার কথা বলেন তানিশা। বিশ্বাস করেন মানবীয় সেবার মাঝে মহিমার প্রকাশ পায়, তাই মাদার তেরেসার মত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার অটুট সংকল্পের কথা জানান। বন্ধুদের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু তানিশার গান, আবৃত্তিতে দক্ষতা আছে। পড়াশুনার ফাঁকে সময় পেলে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যান সিনেমা দেখতে। বই পড়তে ছোটবেলা থেকে ভাললাগে মেয়েটার। তার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ।