বনভোজন সর্বদাই আনন্দের। আর তা যদি হয় দেশসেরা শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে, তবে তো কথাই নেই। সে রকম উপলক্ষ তৈরি হয়েছিল ১ মার্চ সকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বার্ষিক বনভোজন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইনভেস্টর ক্লাবে যাত্রা। সকালে বিভাগীয় প্রাঙ্গণ থেকে ৫টি বাসে করে আমাদের বিশাল বহরের যাত্রা শুরু হয়। বাসে হুল্লোড় আর আনন্দ করতে করতে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই স্পটে পৌঁছাই সবাই। যেন পাখির ডানায় ভেসে কোলাহল ছেড়ে নিরালা অজানায় আছড়ে পড়লাম। সকালের নাস্তা ওখানে করেই যার যার আনন্দ খেলায় মেতে উঠলাম। এ পর্বের বিশেষ দিক ছিল ছাত্র- শিক্ষক বিতর্ক, ক্রিকেট খেলা, শিক্ষকদের আলাদা কিছু খেলা এবং অন্যান্য। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছাত্রদের নিরঙ্কুশ বিজয় পরিলক্ষিত হয়। ফাঁকে ফাঁকে চলে ছবি তোলা এবং নির্মাণাধীন সম্পূর্ণ ক্লাব স্পটটি ঘুরে দেখা। এদিকে কখন যে দু’টা বেজে গেল, খেয়ালই নেই। ডাক পড়ল দুপুরের খাবারের। সুস্বাদু খাবার দিয়ে ভূরি ভোজ, সাথে একই টেবিলে বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকগণ। অনেকদিনের চেনা একটি পরিবার একসাথে। খাবারের পরেই কৃত্রিম লেকে নৌকা অভিসার। এ এক বিরল অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না; শৈশবের নৌকা ভ্রমণের স্মৃতি উঁকি দিচ্ছিল মনে বারবার। মজার ব্যাপার, ভয় কাটিয়ে মেয়েরাও সমান তালে নৌকা বিহারে যোগ দিয়েছিল। অন্যদিকে পাশাপাশি চলছিল মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উপস্থিত বক্তৃতা, কৌতুকসহ অসংখ্য মজার পর্ব। এদিকে সন্ধ্যার একটু আগে র্যাফেল ড্র ঘোষণা করা হলো। আমাদের পরব নাসের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমান টিকেট পেয়ে যেন চাঁদ হাতে পেলো। আমাদের এলএলএম থেকে আরও ৫ জন পুরস্কার পেলো। এদিকে আদনান, শোভন, অয়াসিক, রিয়াদ যেন নেতৃত্বভার গ্রহণ করেছিল জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সামাল দিতে। অতঃপর শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব। আসিফ নজরুল স্যার, ইমন স্যার, হাবিব স্যার, একরাম স্যার, শাহনাজ হুদা এবং তাসলিমা মানসুর ম্যাডাম- প্রত্যেকেই যেন ফিরে গেলেন নিজ নিজ ছাত্র জীবনে। বোনাস হিসেবে যোগ হয় তাদের হাস্য রসাত্মক অভিজ্ঞতা। এদিকে রাতের নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরেছে। এবার ফেরার পালা। আবার সবাই বাসে উঠে পড়লাম। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসল।
এই দিনটি, সন্দেহ নেই, আনন্দের দিক দিয়ে সেরা আসন করে নিয়েছে। উপভোগ্য বনভোজনটি নিশ্চিত ভাবেই মনে দাগ কেটে থাকবে আরও বহুদিন। শিক্ষকদের এত নিবিড়ে পাওয়া, ৫টি ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের একই সাথে একটি ক্যানভাসে জমায়েত হওয়া, সবই যেন ভবিষ্যত্ অবিচ্ছেদ্যতার ইঙ্গিত বহন করে। আইনী মারপ্যাঁচ আর পড়াশুনার পাথরসম চাপ একদিনের জন্য হলেও সরে গিয়েছিল সুদূরে, এই বার্ষিক বনভোজনের মধ্যদিয়ে।
