সদস্য নম্বর: ২৫
ঢাকা আরিচা সড়কের পাশে ঢাকা থেকে ৩৪ কি.মি. দূরে সাভারে নির্মিত হয়েছে এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর (বাংলা ১ পৌষ, ১৩৭৯ সন) স্বাধীনতা উত্তর প্রথম বিজয় দিবসে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্থপতি মইনুল হোসেন স্মৃতিসৌধের মূল নক্মা অঙ্কন করেন। এটি একশত পঞ্চাশ ফুট উচ্চতা-বিশিষ্ট স্মৃতিসৌধ জ্যামিতিক ধারায় ৯০ মাপে তৈরি করা হয়েছে। স্মৃতিসৌধটির ফলক সংখ্যা ৭। তাত্পর্যপূর্ণ এ ৭টি ফলকের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠে সার্থকময় অর্থ। ৭ সংখ্যাটিকে আমরা ভাগ্যবান বলে থাকি। রংধনুর ৭টি রং। আবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। সেখানেও ১+৬=৭ (এক যোগ ছয় সমান সাত)। সারি সারি সাজানো একটি একটি করে সাতটি ফলকের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে প্রাণবন্ত একটি চিত্রকর্ম।
১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
স্থাপত্য শিল্পের গৌরবময় শিল্প এ জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে সিমেন্ট লেগেছে ১,৪০০ টন। ৪৮০ টন প্রয়োজন পড়েছে লোহার। পাথর লেগেছে ১,০০,০০০ ঘনফুট। বালির প্রয়োজন পড়েছে ৫০,০০০ ঘনফুট। কংক্রিটের পরিমাণ ১,২৫,০০০ ঘনফুট।
যাঁরা কাজ করেছে তাঁদের মোট শ্রমঘন্টা লেগেছে ১১,৮৮,০০০ ঘন্টা। মোট তিন কিস্তিতে এর কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ১ম পর্বের কাজ হয় ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৭৪ সালে জুন মাসে। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬ লাখ টাকা।
১৯৭৫ সালে জানুয়ারিতে ২য় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। শেষ ১৯৮২ সালের জুন মাসে। মোট ব্যয় ৩৭৭ লাখ টাকা। ৩য় পর্যায়ে কাজ শুরু হয় ২৪ আগস্ট ১৯৮২ সাল থেকে সমাপ্তি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৮৬ এর জুন মাস পর্যন্ত। সে কালে ব্যয় ৫৮১ লাখ টাকা। এখনও স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত হয়নি।
