সুন্দরবন:প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ১৮:৪০
সুন্দরবন বাংলাদেশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে ৮৯ হতে ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ও ২১ হতে ৩০ এবং ২২ হতে ৩১ উত্তর অক্ষাংশের মাঝে অবস্থিত। সুন্দরবনের মোট আয়তন ৪১১০ বর্গমিটার। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৬ অনুসারে সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ৭৩০ কিলোমিটার। বনজ প্রধান প্রজাতি সুন্দরী, সুন্দরী ছাড়া গেওয়া, পশুর, কেওয়া, বাইন, কড়ই, গরান, গোলপাতা, হেতাল, আমুর, সিংড়াখলসী এবং বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস। বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, শকুর, গুইসাপ, অজগর, কুমির ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সাপ, ইলিশ, চিংড়িসহ প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ রয়েছে। সুন্দরবন তিন জেলার চারটি রেঞ্জ নিয়ে এর প্রশাসনিক কাঠামো। এর মধ্যে খুলনা জেলার খুলনা রেঞ্জ [৩৯৮৫৪০ একর বনভূমি]। বাগেরহাট জেলার চাঁনপাই রেঞ্জ [২৪৭০৫৫] ও শরণখোলা রেঞ্জ [২৩২৯১২০ একর] এবং সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা রেঞ্জ [ ৪৫১১৮০ একর বনভূমি] নিয়ে সুন্দরবন। সুন্দরবন ৫২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য নির্বাচিত হয়। যার ঘোষক ছিল ইউনেস্কো, ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে। আর যার ফলক উন্মোচন হয় ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে। বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হলো বাংলাদেশের জাতীয় বন সুন্দরবন। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা খুব কম। সাগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিদিনই এ বন জোয়ারের পানি দ্বারা প্লাবিত হয়। ফলে মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি। এর ফলে এখানে কতগুলো বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। এ বনাঞ্চলে বেশি দেখা যায় সুন্দরী। এ কারণেই এ বনের নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন। ফারজানা ফেরদৌস, ঢাকা।