কয়েক মাস আগেও দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল এখন তা নেই। তবে এ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে না। এতে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছে না, জমছে অলস টাকার পাহাড়। দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানতের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। রাষ্ট্রীয়, বেসরকারি এবং বিদেশি খাতের ১৯টি ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। ঋণ ও আমানতের গড় অনুপাত (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসেও ছিল ৭১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এমনটাই দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট ছয় লাখ ২৪ হাজার ৬৪৮ কোটি ০৭ লাখ টাকা আমানত রয়েছে। আলোচ্য সময়ে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে চার লাখ ৬০ হাজার ৪৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গড় আমানত বেড়েছে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ৭৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঋণ বিতরণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দাঁড়িয়েছে দেশের রাষ্ট্রীয় খাতের তিন বাণিজ্যিক ব্যাংকে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার এ চার ব্যাংকের গড় ঋণ বিতরণ (-) ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ধারায় নেমে এসেছে। আলোচ্য সময়ে আগের বছরের তুলনায় সোনালী ব্যাংকে ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ বিতরণ কমেছে (-) ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ আমানত বাড়লেও ঋণ কমেছে (-) তিন দশমিক ৮৬ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকে ২২ দশমিক ১১ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে (-) ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর এসব ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোতে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র সাত দশমিক ২৫ শতাংশ।
