মাল্টিপারপাসের পরিচালককে আটক, কার্যালয় ভাংচুর

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২০:৪৪
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ৬ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এক কোটি ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আল আমিন ওয়েলফেয়ার নামে একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে কার্যালয় ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শত শত প্রতারিত গ্রাহক পৌরশহরের পুরাতন বাসস্টেশনস্থ আল আকসা টাওয়ারের ততৃীয় তলায় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় তারা অফিস কক্ষে আটক করে রাখে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মনজুরুল আলমকে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মনজুরুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পঁহরচাদা গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ২০১০ সালের দিকে আল আকসা টাওয়ারের কক্ষ ভাড়া নিয়ে আল আমিন ওয়েলফেয়ার নামক প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক গ্রাহকদের কাছ থেকে এফডিআর, জামানত প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ৯৬৪ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বছর শেষে লভ্যাংশসহ গ্রাহকদের পুরো টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তারা কোন গ্রাহককে তা দেয়নি। এ অবস্থায় গত রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনেক গ্রাহক জানতে পারেন টাকা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ কর্মকর্তারা অফিস থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। ওইসময় গ্রাহকরা জড়ো হয়ে অফিসের বাইরে ব্যাপক ভাংচুর করে। পরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মনজরুল আলমকে আটক করে রাখে। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মনজরুল আলম বলেন, তার সাথে এই ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন আরো একজন। তিনি হলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম কদলপুর গ্রামের আজম খাঁন। দু’জনের নেতৃত্বে দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠানের দশটি শাখা রয়েছে। প্রধান কার্যালয় রয়েছে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে, এছাড়া শাখা আছে রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, কেরানীহাট, বান্দরবান, লোহাগাড়া, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও, কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলায়। তিনি বলেন, গ্রাহকের টাকা তারা আত্মসাত্ করেননি। অন্য শাখায় টাকা প্রয়োজন হওয়ায় মূলত চকরিয়া শাখার টাকা সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছে মেয়াদ শেষে লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত দিতে একটু সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার রাতে ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা টাকা আদায়ের জন্য পরিচালককে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারে সর্বশেষ চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করবে।