শিশিরের কারণেই পেসারদের মেলা!

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৫
ইনিংসের দশম ওভারের ঘটনা। সাকিব আল হাসানের মতো স্পিনারের যখন শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছে তখন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম নিয়ে আসলেন এক পার্টটাইম স্পিনারকে। আপাত দৃষ্টিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত মনে হলেও রান আপ নেয়ার সাথে সাথেই মুশফিকের ‘জুয়া’টা স্পষ্ট হয়ে গেল। আর তাতেই নাসির হোসেন হয়ে উঠলেন মিডিয়াম পেসার। সেই যাত্রাটা অবশ্য মন্দ হয়নি নাসিরের। প্রথম ওভারে দিলেন মাত্র এক রান। শেষ পর্যন্ত তিন ওভার বল করে ২২ রান দিয়েছেন নাসির। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় ম্যাচ শুরু হওয়ায় গতকাল চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ‘নায়ক’ হয়ে ওঠে ওই শিশির। শুরুর পাঁচটি ওভার বল করেন পেসাররা। আর তাতে প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে খেলতে নেমে এক উইকেট হারিয়ে ২৮ রান করে নেপাল। পেসারদের মেলার রাতে সব থেকে আলো ছড়ালেন আল আমিন। গত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে এই ক্রিকেটারের। সেবার সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই ম্যাচে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। গতকাল ছিল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর তাতে শুরুটা অবশ্য মন মতো হয়নি আল আমিনের। নেপাল ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসেই দিয়ে দিলেন আট রান। তার মধ্যে আবার তিন-তিনটা ওয়াইড! যাচ্ছেতাই শুরুর পর আল আমিনের ডাক পড়লো আবার সপ্তম ওভারে। শিশিরের কারণে এর আগের ওভারেই সাকিব এসে দিয়ে গিয়েছেন ১০ রান। সাকিবের জন্য না হলেও আল আমিনের জন্য আশীর্বাদ হয়েই আসলো শিশিরের। আর নিজের করা দ্বিতীয় ওভারে রীতিমতো আগুন ঝড়ালেন এই বোলার। প্রথম তিন বলের মধ্যেই নিয়ে নিলেন দুটি উইকেট। ইনিংসের শেষ ওভারটায় এসে দিয়েছেন মাত্র দুই রান। সব মিলিয়ে দিন শেষে বোলিং ফিগারটা বেশ দেখার মতোই হয়েছে। চার ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ২০ ওভারের মধ্যে পেসাররাই করলেন ১৪ ওভার। আর পাঁচটি উইকেটের মধ্যে চারটিই ওই পেসারদের হাত ধরেই পেয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজা চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন একটি উইকেট। শুরুটা ভাল হলেও সব মিলিয়ে সাদা মাটাই ছিল ফরহাদ রেজার পারফরম্যান্স। তার সৌজন্যেই প্রথম ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। পাঁচ রানে এক উইকেট পেয়ে শুরু করলেও বাকি দুই ওভারে দিয়েছেন ২২ রান। ৩৯ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও ১২৬ রান করতে পারলো নেপাল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে অধিনায়ক পরশ খাড়কা (৪১) ও শরদ বিশ্বকর (৪০*) মিলে যোগ করেন ৮৫ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এটাই নেপালিদের সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশীপ। সাকিব রাজ্জাকরা জ্বলে উঠতে পারলে সেটা আর হয় কিভাবে!