২০১৩ সালের শেষে একবার অভিমান করে টেস্ট থেকে অবসরই নিয়ে ফেলেছিলেন। বনিবনা হওয়ায় ফিরেছেন আবারও। আনন্দময় পরিবেশই আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়ে এনেছে শেন ওয়াটসনকে। অস্ট্রেলিয়ান এই ক্রিকেটারও জানালেন উপভোগই তার পারফরম্যান্সের মূলমন্ত্র।
ভারতের বিপক্ষে ২০১৩ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর অনেক উত্থান পতন ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে। শেন ওয়াটসন ফিরেছেন, বদলে গেছেন দলের কোচ। আর এর মধ্য দিয়েই আবার স্বর্ণ দিনে ফেরার আভাস দিচ্ছে দলটি। আর বদলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার মূলশক্তি হল কোচ ড্যারেন লেহম্যান। এমনটাই জানিয়েছেন ওয়াটসন, ‘মূল পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন ড্যারেন লেম্যান। লেম্যান দায়িত্ব নেয়ার দিনটি থেকেই দলে ছাপ রাখতে শুরু করেছেন। সবাইকে নিয়ে কাজ করার ব্যাপারটা খুব ভালো বোঝেন, জানেন কি করে সবার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে নিতে হয়। জানেন দলীয় পরিবেশ ভালো রাখতে কী করতে হয়। ক্রিকেটটাকে উপভোগ করতে শিখিয়েছেন আমাদের। শুধু মাঠের ক্রিকেট নিয়েই ভাবতে পারি এখন, বাইরের কিছু নয়। একটা সময় (আর্থারের সময়) মাঠের বাইরের অনেক কিছু নিয়েই ভাবতে হত। ড্যারেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই প্রতিটি মুহূর্ত সবাই উপভোগ করছে। দলের পরিবেশটাই এখন দারুণ মজার।’
টি-টোয়েন্টি দলের অপরিহার্য অংশ ওয়াটসন। অথচ একটা সময় ক্রিকেটই ছেড়ে দেবার কথা ভেবেছিলেন এই ক্রিকেটার। সেই সময়ের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘ওই দিনগুলো অনেক পেছনে ফেলে এসেছি। অস্ট্রেলিয়া দলের অংশ হওয়াটাই এখন দারুণ মজার একটি ব্যাপার। ক্রিকেটটা খুব ভালো খেলছি আমরা, আর দলের পরিবেশটাই এখন দারুণ উপভোগ্য। হ্যাঁ, ওই সময়টায় যা হচ্ছিল দলটা নিয়ে, খেলাটা আমি মোটেও উপভোগ করছিলাম না। আর আমি ক্রিকেট খেলিই তো উপভোগ করি বলে। সেই উপভোগের ব্যাপারটাই যদি না থাকে, খেলে কী হবে! এজন্য ছাড়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন আনন্দময় পরিবেশটা ফিরে এসেছে। এখন দলের অংশ হওয়াটা দারুণ ব্যাপার।’
২০১০ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেও এখন পর্যন্ত একবারও শিরোপা জয় করা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। এবার শিরোপা জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। আর এবারের দলটিকে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা দল বলেই ঘোষণা দিয়ে দিলেন ওয়াটসন, ‘আমি যতগুলো টি-টোয়েন্টি দলে ছিলাম, এটাই সেরা। কোনো সন্দেহ নাই। ব্যাটে-বলে অনেক ম্যাচ উইনার আমাদের। ব্যাটিংটা অনেক লম্বা। একাই ম্যাচ জেতানোর মতো অনেক ক্রিকেটার আছে আমাদের। মিচেলের না থাকা দুঃখজনক, তারপরও যারা আছে, কেউ কারো চেয়ে কম নয়।’
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০১১ সালে অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলেছিলেন ওয়াটসন। সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯৬ বলে করেছিলেন ১৮৫ রান। ইনিংসে ছিল ১৫ টি চার আর ১৫ টি ছক্কা। সত্যি অবিশ্বাস্য। এবারও সেই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান ওয়াটসন, ‘পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র সপ্তাখানেকই হয়ত আমি বাংলাদেশে কাটাতে পেরেছি। আশা করি এবার একটু বেশি সময় কাটাতে পারব! ওই ইনিংস খুব ভালো মনে আছে আমার। ওই দিনটি তো কখনোই ভুলব না। রেকর্ড গড়া, সেদিন আমার নায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ ব্যাটিংও করেছিলাম। আশা করি এবারও ভালো সময় অপেক্ষা করছে আমার জন্য।’
বিপক্ষে দলের বোলাররা শুনছেন তো!
