দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ শতাংশ কোটিপতি ও ২৬ শতাংশ ব্যবসায়ী বলে তথ্য দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন ঋণগ্রহীতা বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে দেয়া সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮ জন প্রার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুজনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের সহসমন্বয়কারী সানজিদা হক।
সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৫০ প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা খেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে। ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ শতাংশ কোটিপতি। এদের নিজ ও নির্ভরশীলদের নামে ন্যূনতম এক কোটি টাকার ওপরে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। যে ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণ আছে, কিন্তু মূল্য উল্লেখ নেই, সেগুলো এই বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ঘোষিত-অঘোষিত সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসাব করলে কোটিপতিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সুজনের দাবি, সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন কোটিপতি। পাঁচ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে একজনের। জাতীয় পার্টির একজনের পাঁচ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে।
সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এবারও পরিবারতন্ত্রের প্রভাব লক্ষণীয়। আওয়ামী লীগ যে ৩৯টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, তার কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ আত্মীয়তার সূত্রে মনোনয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত নয়জন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।
সুজনের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন, এমন নয়জন এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন। এই নয়জনের গড় আয় বেড়েছে ১৫১ শতাংশ। বর্তমানে জাতীয় সংসদে যেভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
