দশ কিশোরীর স্যানিটারি ন্যাপকিন কারখানা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৭
লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে ওঠার ব্যতিক্রমধর্মী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধা সদরের বানিয়ারজান গ্রামের ১০ কিশোরী। বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় তারা গড়ে তুলেছেন স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির ছোট্ট একটি কারখানা। শহরের পশু হাসপাতাল সড়কে ‘স্যানিটেশন মেলা’ নামে একটি দোকানও পরিচালনা করছেন তারা। এই দোকানে অন্যান্য মনোহরী মালামালের সাথে নিজেদের তৈরি ‘অপরাজিতা’ নামের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিনও বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শহরের আরো ১০টি ওষুধের দোকানে তাদের তৈরি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হচ্ছে। এই উদ্যোক্তা কিশোরীরা হলেন রিপা, আফরুজা, রূপা, হেনা, সিতু, জুঁই, মাহমুদা, লেবু, খাদিজা ও হিরামনি। এদের কেউ স্কুলে, কেউ বা কলেজ পড়েন। তাদের দোকানের সাইনবোর্ডে লিখে রাখা হয়েছে ‘কিশোরীদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান’। কিশোরীরা জানান, তাদের তৈরি পাঁচটি ন্যাপকিনের ১টি প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। প্রতি প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে- ‘আপনার কেনা ন্যাপকিনের মূল্য এলাকার সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করবে’। সূত্র জানায়, ইউনিসেফ ও ইউকে এইড এর অর্থায়নে গাইবান্ধা পৌরসভা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রাকটিক্যাল একশন বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ছিন্নমূল মহিলা সমিতি’ পরিচালিত ‘স্যানিমার্ট’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থী কিশোরীরা ওই ন্যাপকিন কারখানা গড়ে তুলেছেন। মূলত কিশোরীদের আত্মনির্ভর করে তুলতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কিশোরীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি শেখানো। এছাড়া লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজকে তৈরি করে উপার্জনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলা। ‘ছিন্নমুল মহিলা সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মুর্শিদুর রহমান জানান, ‘স্যানিমার্ট’ নামের এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় জেলা শহরের আরবান এলাকা থেকে মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ১০ শিক্ষার্থী কিশোরীকে তাদের অভিভাবকদের সম্মতিতে বাছাই করা হয়। একটি দোকান ও স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির ঘর ভাড়া নেয়াসহ নানা উপকরণ, যন্ত্রপাতি, সেলাই মেশিন, প্রিন্টেট প্যাকেট এবং দোকানের অন্যান্য মালামালও প্রকল্প থেকে কিশোরীদের শর্তসাপেক্ষে প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কিশোরীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ৩ ঘণ্টা করে ন্যাপকিন তৈরি করেন। ২ জন করে দোকানে বেচাকেনার দায়িত্ব পালন এবং প্রতিদিন আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করেন। পরীক্ষামূলক এই প্রকল্পটি ইতিমধ্যে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কিশোরীরা জানান, তাদের উত্পাদিত ন্যাপকিনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে তাদের কারখানায় প্রতিমাসে ৪শ’ পিস ন্যাপকিন তৈরি হচ্ছে। এছাড়া দোকানে অন্যান্য পণ্য বেচাকেনা করেও লাভ হচ্ছে। এক্ষেত্রে কিশোরীরা যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন, তেমনি অন্যান্য মেয়েদেরকে এ উদ্যোগ আত্মনির্ভরতার পথে উদ্বুদ্ধ করছে। এ ব্যাপারে প্রকল্পটির অন্যতম উদ্যোক্তা এইচএসসির ছাত্রী রিপা জানান, শুরুতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়লেও এখন মানুষ তাদের এ উদ্যোগকে ভাল চোখে দেখছে এবং উত্সাহিত করছে।