বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৯
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুশীল সমাজের সাম্প্রতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। বিরোধী দলে থাকাকালে যারা (বিএনপি) সংসদের প্রতি বিমুখ ছিল, দিনের পর দিন সংসদে থাকেনি তাদেরই আবারও সংসদে নিয়ে আসার জন্য একটি বিশেষ মহল মায়াকান্না শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন রিপোর্ট দিচ্ছে। দেশের উন্নয়ন তারা চায় না। মূলত এদের দরদ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের জন্য। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএনপির অতীতের সংসদ বর্জনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এখন নতুন সংসদ শুরু হয়েছে। এর আগের সংসদে যিনি বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন তিনি ৪১৮ দিনের মধ্যে মাত্র ৮ দিন সংসদে গিয়েছেন। ওই সময়ের বিরোধী দল (বিএনপি) ৮-১০ দিন সংসদে ছিল। যে বিরোধী দল সংসদেই যায়নি, সংসদেই থাকেনি এখন তাদের সংসদে নিয়ে আসার জন্য এতো মায়াকান্না কেন? কারও নাম উল্লেখ না করেই সুশীল সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে উপজেলা নির্বাচন এত সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ হয়েছে সেই নির্বাচন নিয়েও নানা কথা শোনা যাচ্ছে। জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যাই বলুক না কেন, যে দেশের জন্য জাতির পিতা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবেই। এদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তও হবেই। এটি কিভাবে করতে হয় সেটিও ভালোভাবেই জানে আওয়ামী লীগ। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্তরের নির্বাচনকে ঘিরে যেমন ষড়যন্ত্র হয়েছিল, ঠিক একই রকম ষড়যন্ত্র এবারের নির্বাচনকে ঘিরেও দেখা গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত পাঁচ বছরে আমরা দেশকে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি থেকে বের করে এনেছি। তারা দেশকে যে কালো তালিকাভুক্ত করে গিয়েছিল, তা থেকেও বের হয়ে দেশ আজ বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসন পেয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এটাই যেন কোন কোন মহলের পছন্দ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যারা এত কথা বলছেন, ২০০১ সালের পর যখন বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার-নির্যাতনের সময় তাদের মুখগুলো কোথায় ছিল? যখন হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা করা হয় তখন তো তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলতে শোনা যায়নি। মনে হচ্ছে, ওই সময় তাদের চেতনা অসাড় হয়ে গিয়েছিল, জ্ঞান-বুদ্ধিও লোপ পেয়েছিল। বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতার নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গড়ার সংগ্রাম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধী তারা ভাবতেও পারেনি এদেশ স্বাধীন হবে আর স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনাকারীরা এত দক্ষতার সঙ্গে দেশকে এগিয়েও নিয়ে যেতে পারবে। তিনি বলেন, শত ষড়যন্ত্র ও বাধার পাহাড় ডিঙিয়েই জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করেছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের এটিও সহ্য হয়নি। এ কারণেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়েই তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছে। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর এদেশের ক্ষমতায় আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর পরাজিত শক্তির দোসররা। জিয়াউর রহমান এই অপশক্তির দোসর হিসেবে আবির্ভূত হন। নামে মুক্তিযোদ্ধা হলেও তার কাজই ছিল স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।