টানা সাত বছর ধরে কোনো না কোনো সময় টপচার্টের প্রথম স্থান দখল করে ইতিহাস গড়লেন বারবাডোসের পপগায়িকা রিহানা। সম্প্রতি আবারও ভক্তদের মাতালেন তার নতুন অ্যালবাম দিয়ে। সেইসাথে তিনি দ্য বিটলস এবং এলভিস প্রিসলির মতো কিংবদন্তিদের সাথে জায়গা করে নিলেন ইতিহাসের পাতায়। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জনপ্রিয় শিল্পী এমিনেমের সাথে রিহানার সাফল্যের ধারা শুরু হয় ২০০৭ সালে ‘আমব্রেলা’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০১০ সালে ‘লাভ দ্য ওয়ে ইউ লাই’ এবং বর্তমানে ‘দ্য মনস্টার’ গানটি দিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রাখেন। অবশ্য সাত বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা ‘দ্য বিটলস’-এর সাথে তুলনা করতে গেলে দেখা যায়, এই একই সময়ে তাদের শীর্ষস্থান পাওয়া গানের সংখ্যা ছিল ১৭টি, আর রিহানার রয়েছে ৮টি গান।
কিছুদিন আগেই গুগলে কারো ‘অ্যামব্রেলা’ লিখে সার্চ দেওয়ার মানে হওয়া উচিত ছিল, তিনি নতুন আমব্রেলা কিনতে যাচ্ছেন আর তার মডেল পছন্দ করতে বসেছেন অনলাইনে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয়নি। আমব্রেলা লিখে সার্চ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই তবে তা ‘আমব্রেলা’ খ্যাত রিহানাকে খোঁজার জন্য। ইন্টারনেটে সবথেকে বেশি খোঁজ নেওয়া হয়েছে রিহানাকে। কিছু বিরতির পর সম্প্রতি আবারও তাকে খোঁজা হচ্ছে। এবার তার নতুন অ্যালবাম, ‘কান্ট রিমেম্বর টু ফরগেট ইউ’-এর জন্য। সম্প্রতি জনপ্রিয় এই গায়িকাকে ফিচার করেছেন সংগীত জগতের আরেক রানি শাকিরা। ১৩ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া এ অ্যালবামটিতে একসাথে দেখা গেছে শাকিরা ও রিহানাকে। অ্যালবামটি বাজারে আসার সাথে সাথেই বেশ জনপ্রিয়তা পায়। শাকিরা ফিচারিং রিহানা অ্যালবামটির ভিডিও এখন ইউটিউব কাঁপাচ্ছে। এর গানগুলো লিখেছেন শাকিরা, রিহানা, জন হিল, টম ‘কিড হারপুন’ হাল, ড্যানিয়েল লেডিনস্কি ও এরিক হাসল। রিহানার জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে সেই ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। বারবাডোজ শহরের সেইন্ট মাইকেল নামের এলাকায় জন্ম নেন তরুণ প্রজন্মের এই তারকা। এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন তিনি। তার মা, মনিকা একজন অ্যাকাউন্টেন্ট ও বাবা, রোনাল্ড ফেন্টি পেশায় একজন ওয়্যারহাউজ সুপারভাইজর। তারা মোট তিন ভাই-বোন। তার বড় দুই ভাই ররি ও রেজাদ ফেন্টি। হাস্যোজ্জ্বল মেয়েটি খুব ছোটবেলা থেকেই গান ভালোবাসতেন। তিনি প্রথম গাওয়া শুরু করে যখন তার বয়স মাত্র সাত বছর। তার শৈশব খুব একটা ভালো কাটেনি। কারণ তার ছেলেবেলার বেশিরভাগ সময়টাই কেটেছে তার বাবার কোকেনের প্রতি তীব্র আসক্তি দেখে। তাদের পারিবারিক কলহ দেখে। এরই মধ্যে চলেছে তার পড়াশোনা। তিনি চার্লস এফ ব্লুম মেমোরিয়াল নামের এক প্রাইমারি স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর সেখান থেকে ভর্তি হন কমবারমেরি স্কুলে। সেখান থেকেই মূলত তার সংগীতের সাথে পরিচয়। তিনি ও তার সহপাঠী মিলে শুরু করেন সংগীত চর্চা। সেসময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর। শুধু সংগীত প্রতিভাই নয়, তিনি ২০০৪ সালে একবার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেছিলেন। তার গানের জগতে প্রবেশের সুযোগ আসে অনেকটা সহজভাবেই। একটা গানের অনুষ্ঠানের অডিশনের জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে দেখেন, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি একা, মৃদু কম্পন নিয়ে গান গাওয়া শুরু করেন। ‘ডেসটিনিস চাইল্ড’ গানটি গান তিনি। গানটি ‘ইমোশন’ টাইটেলের ছিল। তার কণ্ঠ সবাইকে মুগ্ধ করে। শুরু হয় রিহানার পথচলা। তার বয়স যখন ১৬ বছর, তারা সপরিবারে আমেরিকাতে চলে আসেন। তার গানের প্রতিভার কথা জেনে কার্ল স্টারকেন নামের এক ভদ্রলোক তাকে গানের জগতে প্রবেশে অনেক সাহায্য করেছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ৪টি গানের ডেমো রেকর্ড করেন। ‘লাস্ট টাইম’ নামের মিক্স অ্যালবামে সেগুলো স্থান পায়। অ্যালবাম মুক্তি পাওয়ার পরে তার গানগুলো ব্যাপক হিট করে। বাজারে চাহিদার কারণে প্রকাশক তার একক অ্যালবাম প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সেই সুবাদে, তার প্রথম অ্যালবাম ‘পন দে রিপ্লে’ বাজারে আসে। এবং অ্যালবাম মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিভিন্ন রেকর্ডিং কোম্পানি তাকে প্রস্তাব দিতে শুরু করে। এরমাঝেই জ্যাজ-জেড ও যিভ জ্যামের মতো ব্যক্তিত্বরা তাকে দিয়ে গান গাওয়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্যারিয়ারের শুরুটা এভাবেই হয় তার। বলা যায় তেমন একটা সংগ্রাম তার করতে হয়নি শুধু অনন্য মেধার কারণে।
