ক্রিশ্চেন বেল, অ্যামি অ্যাডামস, জেরেমি রেনার এবং জেনিফার লরেন্স অভিনীত ২০১৩-এর বহুল আলোচিত সিনেমা ‘আমেরিকান হাসল’। অস্কার নমিনেশন পাওয়া
এ সিনেমার কথা জানাচ্ছেন
প্রাঞ্জল সেলিম
মুভির প্রথম দৃশ্য দেখেই মুভির প্রতি আলাদা একরকম আকর্ষণ জন্মাবে এবং মুভির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত তা বিদ্যমান থাকবে এবং একই সাথে বেলের প্রতি আরেকবার নতুন করে সম্মান জাগবে চরিত্রের প্রতি তার ডেডিকেশনের জন্য। ডেভিড ও রাসেল পরিচালিত এবং ক্রিশ্চিয়ান বেল, ব্র্যাডলি কুপার, অ্যামি অ্যাডামস, জেরেমি রেনার এবং জেনিফার লরেন্স অভিনীত ২০১৩-এর অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত আলোচিত মুভি ‘আমেরিকান হাসল’।
সিনেমার গল্প
আরভিং রোসেনফেল্ড একজন কন আর্টিস্ট। সে এবং তার ব্রিটিশ পার্টনার সিডনি প্রসার অনেকটা বাধ্য হয় এফবিআই এজেন্ট রিচি ডিমাসোর সাথে কাজ করতে। আরভিং এবং সিডনির মাঝে রোমান্টিক সম্পর্ক বিদ্যমান কিন্তু, আরভিং আগে থেকেই রোসালিনের সাথে বিবাহিত এবং সেখানে তাদের একটি বাচ্চাও আছে। নতুন এই কাজটি আরভিং এবং সিডনির জন্য অনেক বিপজ্জনক কিন্তু সেটা না করেও তাদের উপায় নেই।
ক্রিশ্চিয়ান বেলকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। নিঃসন্দেহে তিনি বর্তমান প্রজন্মের সেরা অভিনেতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে আগে ওজন কমাতে দেখেছেন, কিন্তু এইবার তাকে দেখা যায় ওজন বাড়াতে এবং ভুঁড়িওয়ালা এক ব্যবসায়ীর চরিত্রে। মাথার চুলের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। বেলের মতো সুদর্শন একজন মানুষ চরিত্রের প্রয়োজনে এত কুিসত সাজতে পারেন, তা শুধুমাত্র বেলের কাছ থেকেই আশা করা যায়। মুভিতে বেলের ডায়লগ ডেলেভারিও ছিল অসাধারণ। আরেকদিকে ব্রাডলি কুপারের অভিনয় দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন দশর্ক। কুপার যেন রাসেলের ছোঁয়ায় পুরো বদলে যাওয়া এক অভিনেতা। তার লুক ছিল আকর্ষণীয়। তবে, অ্যামি ছিলেন পুরো মুভিতে অনবদ্য। হট, সিডাকটিভ এবং গ্ল্যামারাস। অ্যামিকে এই ৪০-এর কাছাকাছি বয়সেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় মনে হয়েছে এবং অভিনয় আগের মতোই ভালো লেগেছে। জেরেমি রেনারের অভিনয় সেভাবে টানতে পারেনি, তবে তার লুক ছিল প্রশংসনীয়। ক্যামিওতে পর্দা কাঁপিয়েছেন লিভিং লিজেন্ড নিরো। তবে, বেলের পরে এই মুভির সেরা প্যাকেজ ছিলেন জেনিফার। জেনি যে ভবিষ্যতে আরও দুই-তিনটা অস্কার তার ঝুলিতে ভরবেন, সেটা এখন থেকেই বোঝা যায়।
ডেভিড ও রাসেল দিন দিন সবার অন্যতম প্রিয় পরিচালক হয়ে উঠছেন। ‘দ্য ফাইটার’ এবং ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’-এর পরে আরেকটি মনে রাখার মতো মুভি এবং খুব সম্ভবত আগের দুইটিকেও ছাড়িয়ে গেছেন এইবার। বিনোদন এবং ক্লাসের অপূর্ব মিশ্রণ। ৭০-এর দশকের কথা মাথায় রেখে সবাইকে নতুন লুকে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসা এবং তাদের কাছ থেকে তাদের সেরাটা বের করে নেওয়ায় পরিচালক হিসেবে ধন্যবাদ পেতেই পারেন রাসেল।
গোল্ডেন গ্লোবের নমিনেশনের দিকে তাকালেই দেখবেন এই মুভির জয়-জয়কার। সেরা মুভি (মিউজিক্যাল/কমেডি), সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা হিসেবে বেল, সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যামি, সেরা সহকারী অভিনেতা হিসেবে কুপার এবং সেরা সহকারী অভিনেত্রী হিসেবে জেনি নমিনেশন পেয়েছেন।
