বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয় এক খেলার নাম ক্রিকেট। বিশেষ করে এই উপ-মহাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। যদিও ক্রিকেট নামের এই খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এই উপমহাদেশের ভূমিকা যতটা অগ্রগামী এই খেলাটির জন্মের সময় উপমহাদেশের ভূমিকা ঠিক ততটাই কম। ধারণা করা হয় যে ইতিহাসে প্রথম যে ক্রিকেট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা যায় তারও প্রায় শ’খানেক বছর আগে ইংল্যান্ডে মেষপালকদের সন্তানদের মধ্যে এই খেলাটির চল ছিল। এখনকার ক্রিকেট খেলার নিয়মের সাথে তেমন কোনো মিল না থাকলেও মেষপালকদের সন্তানদের হাত ধরেই ক্রিকেটের উদ্ভব বলে বিশ্বাস অধিকাংশ ঐতিহাসিকের। পরে ১৭০৯ সালে ইংলিশ কাউন্টিগুলোর মধ্যে প্রথম এ ধরনের কোনো খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা যায়। পরবর্তী এক শ বছরে ইংল্যান্ডে যেমন একটু একটু করে পরিচিতি পেতে থাকে এই খেলাটি তেমনি পরিবর্তন আসতে থাকে এর নিয়মেও। এরই ধারাবাহিকতায় আঠার শ শতকে এসে এই ইংল্যান্ডের হাত ধরেই ক্রিকেট খেলাটি একে একে ছড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ডের উপনিবেশগুলোতে। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইন্ডিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে ক্রমে ক্রমে উনিশ শতকের সূচনা লগ্নেই ক্রিকেট তার জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। তবে ক্রিকেট খেলার জন্য সত্যিকার অর্থে প্রথম আইনের দেখা মিলেছিল এরও বহু আগে ১৭৭৪ সালে। এ সময় এলবিডবি¬উ, ব্যাটের সর্বোচ্চ প্রস্থ বা স্টাম্পের আকারের মতো বিষয়গুলো ক্রমে ক্রমে নির্ধারিত রূপ লাভ করে। আর এসব আইন কার্যকর করার জন্য সে সময় দুই দলের অধিনায়কের সম্মতিক্রমে দর্শকদের মাঝ থেকেই দু’তিনজন ভদ্রলোককে আম্পায়ার হিসেবে নির্বাচিত করা হতো। অন্যদিকে ক্রিকেটের এসব আইন লিপিবদ্ধ করার প্রথম প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয় স্টার অ্যান্ড গার্টার ক্লাবের মাধ্যমে যেটির সদস্যরাই পরে জন্ম দেন ঐতিহাসিক মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব আর লর্ডস মাঠের। সেই থেকে ক্রিকেটের আইন রক্ষা এবং এর যেকোনো পরিবর্তনের দায়িত্বও বর্তায় এই মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ওপর। মজার বিষয় হলো খেলার নিয়মের পাশাপাশি কালে কালে পরিবর্তন এসেছে এই খেলাটির ধরনেও। উদাহরণস্বরূপ এক সময় আজকের দিনের মতো বল না করে অধিকাংশ বোলারই তাদের বল মাটিতে গড়িয়ে দিতেন। আর এজন্য সে সময়কার ব্যাটগুলোও দেখতে ছিল হকি খেলার ব্যাটের মতো। তবে সময়ের সাথে সাথে বল মাটিতে বাউন্স করে বল করার বিধান যখন চালু হয় তখন এতে যুক্ত হয় স্পিন বা পেসের মতো বৈচিত্র্যও। আর এই বৈচিত্র্যকে সামাল দিতেই ব্যাটের ধরন পাল্টে আজকের রূপ লাভ করে। এদিকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিকেট খেলার প্রথম যে উদাহরণটি পাওয়া যায় সেটি ছিল ১৮৭৭ সালের কথা। সে বছরই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় যেয়ে সে দেশের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ খেলে। আর এই ট্যুরের জবাবে পরের বছর অস্ট্রেলিয়াও আসে ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলতে। তবে ক্রিকেটের প্রাচীন সেই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম হয় ১৮৮২ সালে অ্যাশেজ সিরিজের জন্মের মাধ্যমে। অন্যদিকে ১৮৮৯ সালে তৃতীয় টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম লেখানোর পর বাকি সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের অধিকাংশেরই আবির্ভাব ঘটে বিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষার্ধে।
