আজও সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী বিজয়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:০৮
আফগানিস্তান ও নেপালকে হারিয়ে টপ টেনে ওঠা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার শেষ গ্রুপ ম্যাচে হংকংকে হারাতে পারলেই টপ টেনের টিকেট পেয়ে যাবে টাইগাররা। হেরে গেলেও যে ছিটকে যাবে তারা, তা নয়; তখন ভাগ্য নির্ধারিত হবে রানরেটে। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই করে এই রানরেটের হিসাব-নিকাশে গিয়ে ভাগ্যের হাতে নিজেদের ছেড়ে দিতে চায় না। তাই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হক বিজয় বললেন, হংকংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই তারা আজ আরেকবার নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে চান। হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আরো এক কারণে গুরুত্বপূর্ণ এনামুল হক বিজয়ের কাছে। কারণ এটাকে তারা দেখছেন সুপার টেনে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ হিসেবে, ‘হংকংয়ের ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টপ টেনে ওঠার আগে নিজেদের ঝালাই-বাছাই করতে হবে। নিজেদের ভুলগুলো শোধরাতে হবে। হংকংয়ের বিরুদ্ধে ভালো কিছু করে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিটা সুদৃঢ় করতে হবে।’ হংকংকে যথেষ্ট সমীহ করলেও আসলে তাদের চোখ যে সুপার টেনে চলে গেছে, সেটা বিজয়ের কথাতে পরিষ্কার। হংকংকে হারানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিজয় বলেন, ‘আমাদের আসল চ্যালেঞ্জ শুরু টপটেনে ওঠার পর। হংকংয়ের বিরুদ্ধে আজকের ম্যাচটিকে আমরা টপটেনের আগে অনুশীলনের একটি চমত্কার সুযোগ হিসেবে দেখছি।’ হংকংয়ের সাথে এর আগে কোনো ম্যাচ না খেললেও তাদের খেলার ভিডিং ফুটেজ দেখেছেন বিজয়। সেই ফুটেজ দেখেই দলটি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিয়েছেন। এটা বুঝতে পারছেন যে, তাদের মূল শক্তি পেস বোলিংয়ে, ‘হংকংকে নিয়ে এর আগে কখনো অতোটা বিশদভাবে চিন্তা করিনি। তবে বৃহস্পতিবার যেহেতু ওদের সাথে আমাদের ম্যাচ। তাই ওদের নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে। তবে একটি হংকং ভালো দল। ৪/৫ জন ভালো পেসার রয়েছে ওদের। ব্যাটিং ও ফিল্ডিংও নেহায়েত মন্দ নয়। গত দু’টি ম্যাচে তারা হারলেও আমরা তাদের খাটো করে দেখছি না। কারণ টি ২০ ক্রিকেট মহা-অনিশ্চয়তার খেলা। ফলাফল যে কোনো দলের পক্ষেই যেতে পারে।’ সমপ্রতি এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকানো ২১ বছর বয়সী বিজয় এখনও টেস্টে নিজেকে সেভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। যদিও চলছে টি-টোয়েন্টির উত্সব। তারপরও তিন ফরম্যাটের তুলনামূলক আলোচনায় সে দুঃখের কথা বললেন বিজয়, ‘টেস্ট খেলাটাই আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। অবশ্য আমার দুর্ভাগ্য টেস্টে আমি তেমন একটা সফলতা পাইনি। ইদানীং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ভালো লাগছে। কারণ এটি খুব অল্প সময়ের খেলা। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যাপার। এ পর্যন্ত আমি যে কয়টা টি ২০ ম্যাচ খেলেছি তার সবগুলো থেকেই মজা নেয়ার চেষ্টা করেছি। তবে টেস্ট, ওডিআই এবং টি ২০ সহ সব ফরমেটের ক্রিকেটেই ভালো করার লক্ষ্য আমার। প্রতিটি ফরমেটেই আমি সময় নিয়ে ব্যাটিং করার চেষ্টা করি। কখনো সফল হই। আবার কখনোবা ব্যর্থ। আমি একজন পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হতে চাই। সেই লক্ষ্যেই আগামীদিনের জন্য নিজেকে তৈরি করছি। ’ গত বুধবার নেপালের বিরুদ্ধে ৩৩ বলে ৪২ রান করার পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন বিজয়। এ সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বললেন, ‘এর জন্য আমি দায়ী নই। কারণ বলটা আমার ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটে এমন ঘটনা হয়ই।’