জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, টিআইবি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন চায়নি। তারা চেয়েছিল- অন্য কেউ ক্ষমতায় আসুক, দেশ অসাংবিধানিক পথে এগিয়ে যাক, দেশ সন্ত্রাস ও অরাজকতায় ডুবে যাক। সেই আশা পূরণ হয়নি বলেই টিআইবি বর্তমান সংসদ, নির্বাচন ও বিরোধী দল সম্পর্কে এই ধরনের কথা বলেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদে বিরোধী দল রয়েছে। বরং নবম সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল ছিল না। আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিমের পাশাপাশি তিনিও টিআইবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। গতকাল বুধবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এসব একথা বলেন।
ব্যারিস্টার আনিস বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায়ও নেলসন ম্যান্ডেলা বিরোধী দলকে নিয়েই সরকার গঠন করেছিলেন। পাকিস্তানে জারদারির সরকারে তত্কালীন নওয়াজ শরীফের বিরোধী দল অংশ নিয়েছিল। পাকিস্তানে সেটিই ছিল একমাত্র স্থিতিশীল সরকার, যেটি পুরো পাঁচ বছর টেকসই হয়েছিল। এটাই তো ওয়েস্ট মিনিস্টার্স সিস্টেম। আমরাও সেই সিস্টেম অনুসরণ করে বাংলাদেশে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাচ্ছি। বিরোধী দলও যদি মন্ত্রিসভায় থাকে, তাহলে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরার সুযোগ আরও বেশি থাকে। এবার আমরা সেই সুযোগ নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী আজ পর্যন্ত কখনও কেবিনেটে বলেননি যে, আমি এই সিদ্ধান্ত দিলাম, আপনাদের সবার তা মানতে হবে। তাছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল তো সরকারেরই অংশ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট থাকে, বয়কট নেই। বিগত সংসদে বিরোধী দলে থেকে বিএনপি যখন সংসদে আসতো না, বয়কট করতো-তখন কী টিআইবি সেটি দেখেনি? সেদিন কেন তারা চুপ ছিল। সহিংসতা কখনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। সুতরাং টিআইবি যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে সংসদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দু’একটি দল না গেলে নির্বাচন থেমে থাকতে পারে না। কখন নির্বাচন হবে, সেটি সংবিধানেই বলা আছে। নির্বাচনে অংশ নেয়া যেমন কোনো দলের গণতান্ত্রিক অধিকার, তেমনি অংশ না নেয়াও গণতান্ত্রিক অধিকার। এখন যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকতো, আর আওয়ামী লীগ না যেত, তাহলে কী নির্বাচন বন্ধ থাকতো? আমরা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে চাই। ব্যারিস্টার আনিস আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির সুবিধার্থে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল হয়নি। এটা করতে হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী। টিআইবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনের শাসনের প্রতি সম্মান দেখাবে না, এটা তো হতে পারে না।
জাপার এমপি ও বিরোধী দলীয় হুইপ শওকত চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, এর আগে সংসদে না এসে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার বিরোধী দল দেখেছিল টিআইবি। কিন্তু আমরা এবার নতুন ধারার বিরোধী দল।
