জীবন দিয়ে তাড়াহুড়ার খেসারত দিলেন পুলিশ সদস্য মুক্তা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২৩:০০
ছুটি শেষে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন পুলিশ দম্পত্তি মুক্তা রানী মিত্র ও অনিক সরকার। সঙ্গে একমাত্র ছেলে তিন বছরের অর্জুন ও ভাতিজা নন্দন সরকার (২২)। ট্রেনে দীর্ঘপথ পাড়ি দিলেও ঢাকায় পৌঁছে আর তর সইছিল না মুক্তার। খিলগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর মালিবাগ- খিলগাঁও ক্রসিংয়ের মাঝামাঝি এলাকায়। একই ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মুক্তার ছেলে অর্জুন। নন্দন জানান, তারা সকালে নেত্রকোনা থেকে হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেন যোগে ঢাকায় ফিরছিলেন। বিকাল পৌনে তিনটার দিকে ট্রেনটি মালিবাগ রেলক্রসিং অতিক্রম করার পর ধীরগতি চলতে থাকে। এ অবস্থায় তার কাকিমা (মুক্তা) ছেলেকে নিয়ে নামার চেষ্টা করলে তার কাকা (অনিক সরকার) নিষেধ করেন। কিন্তু নিষেধ তোয়াক্তা না করে কাকিমা অর্জুনকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বাসায় (শান্তিবাগ) পৌঁছতে পারেন। কিন্তু ট্রেন থেকে ভালভাবে নামতে পারলেও একই সময় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা অপর একটি ট্রেনের ধাক্কায় দু’জনই ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। সব কিছু তাদের চোখের সামনে ঘটে যায় মাত্র এক মিনিটের মধ্যে। এ অবস্থায় সে এবং তার কাকাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় মুক্তা ও অর্জুনকে উদ্ধার করে খিলগাঁও খিদমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে কর্তব্যরত চিকিত্সক মুক্তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অর্জুনের অবস্থায় আংশকাজনক হওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, অর্জুনের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। নন্দন সরকার এ দুর্ঘটনার জন্য তার কাকিমার তাড়াহুড়াকে দায়ী করে বলেন, এক-দু’ মিনিটের মধ্যেই ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছে যেত। এদিকে স্ত্রীকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন অনিক সরকার। তিনি এখন ছেলের জীবন নিয়েই ভীষণ শংকিত। কোন কথা বলতে পারছেন না। শুধু অঝোরে কাঁদছেন। প্রসঙ্গত, পুলিশ কনস্টেবল মুক্তা রানী মিত্র সিএমএম আদালতে কর্মরত ছিলেন। কনস্টেবল অনিক সরকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সাপ্লাই বিভাগে ছিলেন। তাদের বাসা ১৬৫ শান্তিবাগ। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার কুলফুতাকে। গত ১৪ মার্চ তারা ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।