বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী ছেঁড়া দ্বীপ-এর কথা।
অসীম সাগরের সাথে দিগন্তে মিশে যাওয়া নীল আকাশের মিতালি যাদের ভালো লাগে তাদের কাছে ঘুরে বেড়ানো চমত্কার একটি জায়গা হতে পারে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত ভূখণ্ড ছেঁড়া দ্বীপ। আর দশটা স্থানের মতো এখানে সব সময় পর্যটকদের ভিড়ভাট্টা লেগে না থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্যে কখনও কমতি পড়ে না। মূলত বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকেও আর খানিকটা দূরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের বেশ কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টিই হলো এই ছেঁড়া দ্বীপ। অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করেন যে, ছেঁড়া শব্দের অর্থ যে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন, সেই বিচ্ছিন্নতার ধারণা থেকেই এই দ্বীপগুলো কালক্রমে ‘ছেঁড়াদিয়া’ বা ‘সিরাদিয়া’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার আর টেকনাফ হয়ে তারপর ট্রলার বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে আসতে হয় ছেঁড়া দ্বীপে। আর দ্বীপে পা দিয়েই প্রথমে যে বিষয়টি আপনার নজর কাড়বে সেটি হলো অজস্র কালো আর সাদা প্রবালে ভরা বিস্তীর্ণ সৈকত। এই সৈকতের প্রবাল প্রাচীরেই অবিরত আছড়ে পড়ছে সাগরের ফেনিল ঢেউ। প্রবালের অংশগুলো পেরিয়ে আরেকটু সামনে এগুলেই দেখা মেলে বুনো ঝোপ ও কেয়া গাছের ছোট ছোট সারি। তবে এই গাছগুলোর বাইরে পুরো দ্বীপে আর কোনো বড় গাছ চোখে পড়ে না। তবে বৃক্ষরাজির এই অভাব যদি আপনার সৌন্দর্যবোধকে কিছুমাত্রও আহত করে তাহলে সেই আঘাত পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে এখানে রয়েছে রঙ-বেরঙের বহু মাছ আর বাহারি সব শামুক-ঝিনুক। ছেঁড়া দ্বীপের পানি অনেক স্বচ্ছ বলে পানির নিচে নানা রঙের মাছগুলোর ইতস্তত চলাফেরা দেখতে খুবই ভালো লাগে। আবার নাম না জানা অগনিত এই মাছেদের ভিড়ে মাঝে মাঝে দেখা মেলে জেলিফিশেরও। এছাড়া পর্যটকদের খুব একটা ভিড় না থাকলে কখনো কখনো দ্বীপের সৈকতে ডলফিন আর মাথার ওপর উড়ন্ত গাঙচিলেরও দেখা মেলে। কখনো সখনো চোখে পড়ে দু’একটা সাপ এবং সাগরশসা নামের বিচিত্র এক প্রাণীরও। যদিও এত কিছুর মাঝে অনেকের দৃষ্টিতেই ছেঁড়া দ্বীপের মূল আকর্ষণ হলো এখানে দেখা মেলা নানা জাতের জীবন্ত প্রবালগুলো দ্বীপের সামনে একটু পানিতে নেমে প্রবাল পাথরের ওপর দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে আপনারও চোখে পড়তে পারে এমনি কোনো জীবন্ত প্রবাল। আর এসব কিছুর পাশাপাশি যদি ছেঁড়া দ্বীপে বসে দেখা যায় সূর্যাস্তের দৃশ্যও তাহলে তো কথাই নেই। যদিও ছেঁড়া দ্বীপে কোনো আবাসন সুবিধা না থাকায় এখানে সূর্যাস্ত দেখার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা এবং নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
