কবিতা

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৪, ২০:২৬
তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই খালেদ হোসাইন ‘অনুভূতির তীব্রতা দিয়ে প্রেম হয়, ভালোবাসা হয় সম্পর্ক হয় না। এর জন্য চাই প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। তাই তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।’ মাঘ মাস যাই যাই করছে আকাশ তার বুকে সাজিয়ে রেখেছে অযুত-নিযুত নক্ষত্র। রাতে আমি যে-পথে হাঁটি তাতে মানুষজন থাকে কম। শীত বেশি। গাছপালাগুলো রাস্তার ওপর ঝুঁকে থাকে। তখন সবকিছুকেই রহস্যময় মনে হয়। এমনকি তোমাকেও। নির্জন রাস্তায় আমি হাসি। সত্যি, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। বছর ঘুরে আসে মার্চের পর মার্চ অসে ঋতুর পর ঋতু বদলায় চাকুরিও বদল হয় কারো কারো দিন যাপনের অন্তর্গত শৃঙ্খলা— নির্বাচন হয়, মন্ত্রীসভায় কিছু পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু তোমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই আমার কোনো সম্পর্ক নেই। == নাইওর মোস্তাক আহমাদ দীন আমাকে নাইওর নিও আগনের আগে এখন ধানের গন্ধে মনে লাগে ভয়, এখন ধানের শব্দ, বুকে কেউ চিড়া-বারা কোটে; ধানের উয়ানি দেখে চোখে লাগে ধুলোবালিকাচ আমাকে নাইওর নিও কালবোশেখেরও আগে। এখন ভীষণ লাগে ঝড়-ঝঞ্ঝা, মারি ও মড়ক। আউলা বাতাসে আগে উড়েছি যে বিজুলিরও আগে, মৃদুমন্দ বাওয়ে আজ কেঁপে ওঠে বুকের পাঁজর আমাকে নাইওর নিও নিদানের কালে : চৈতে ও কার্তিকে; আগনের-বোশেখেরও আগে === জীবনের খেলাঘর আশরাফ মীর বসন্তের মধুর উষ্ণতায় এই মাধুর্য তুলনাহীন গন্ধ অঢেল অতীতের অনুপম দিন দুরন্ত দুপুর জীবনানুভব। মানুষ একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ের কাছেই দায়বদ্ধ, অফুরান মধুর উষ্ণতা জীবনের উর্বর ভূমিতল নানা রঙের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে রূপসজ্জার জীবনের লিরিক উর্বর বনভূমি। মুক্ত জীবনের খেলাঘর শব্দ-ভাষার সারল্য বিষয় আশয় গন্ধ-বর্ণ বিবিধ উপাদান, কিংবদন্তি, লোকায়ত জীবন অন্তর্লীন নিগূঢ় মরমী তত্ত্ব গভীর অভিনিবেশে খোঁজে জীবনের অভিধানে। === নিস্তব্ধতার মধ্যে থেকে রাগীব হাসান ১. তোমার গানটাই ঝুলে ছিল তালতমালের চূড়ায় আমি হাত দিয়ে ছুঁতে গেছি, কিছুটা পারলাম কিছুটা পারলাম না। ২. আজ পথগুলো এঁকেবেঁকে এল আমার কাছে পথে কুশ ফুটিয়ে রেখেছে কেউ তোমার এলোমেলো চুল দরজা থেকে দেখা যায়। ৩. তাদের চিন্তাশক্তি জলপাতায় ভোরবেলা দেখলাম আমার আত্মা কয়েক বছরের জন্য মরে ছিল কাদের বন্ধু ভাববো? ঘোড়ার পিঠে কখনো উঠলে চাবুক চালাবো না। ৪. ঘৃণা তো কুয়ার পাশে হিমতল হয়ে আছে ভেবে দেখলাম সূর্যে আমার হাত পুড়েছিল এক হাজার বছর আগে। === জন্ম ও মৃত্যুর আগে শাহনেওয়াজ বিপ্লব তারপর যা হলো, তা নাই-বা শোনালে। আমি জানি,পরে কিছু হয়। সে সব দূরের গল্প না-হয় সকালে শোনা যাবে, চায়ের সময়। এখন অনেক রাত্রি, দেখ অন্ধকার শ্বাস ফেলে বুকের ভেতরে। এখন কী হবে শুনে, কে কার তৃষ্ণার কতো শান্তি পেয়েছে শেকড়ে। জানি সবার হাতেই একটি কি দুটি তীর থাকে এবং ধনুক। কেউ পায় জয়মালা, কেউ বা ভ্রু-কুটি সে কাহিনি করে না উত্সুক। পাওয়া আর না পাওয়া সবই এখানে সমগ্রতা—শিল্পের আকাশ। কী হবে সে কথা শুনে,যার রূপস্নানে মিশে গেছে পূরবী-বিভাস! বরং আগের কথা বলো—অন্ধকারে কী শুনেছ,কী দেখেছ তুমি? যখন না জন্ম-মৃত্যু, ছিলে একাধারে ছবি আর শূন্য পটভূমি!