আমলই পরকালের অনন্ত জীবনের পাথেয়

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৪, ২০:৩২
পরকালের জন্য ইহকাল বিক্রয় করলে ইহ-পরকাল উভয়ই লাভ হয়। পক্ষান্তরে ইহকালের জন্য পরকাল বিক্রয় করলে বাহ্যতঃ ইহকাল লাভ হলেও পরকাল তো অবশ্যই বরবাদ হবে। সুতরাং দ্বীন বিক্রয় করে দুনিয়া ক্রয় করে ক্ষণকালের সুখের জন্য চিরকালের সুখকে বরবাদ করা কোন জ্ঞানী মানুষের কাজ নয়। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকেই পরকাল বা আখেরাত বলে। এখানে পরীক্ষা হবে কবরে, হাশরে, মীযানে, পুলসীরাতে আর ফয়সালা হবে জান্নাত অথবা জাহান্নাম। কবরের আযাব সত্য। সত্য পুনরুত্থান ও কেয়ামতের বিচার। সত্য মীযান, হাওযে কাওসার ও পুলসীরাত। সত্য জান্নাত ও জাহান্নাম। বেঁচে আছি মরতে হবে, জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথায় ভবে? আপনার নাম শত্রুতে মিটিয়ে দিতে না পারলেও একদিন আপনা-আপনিই মিটে যাবে। এ দুনিয়া মুসাফিরখানা, পান্থশালা। এ দুনিয়া আমাদের আসল ঠিকানা নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেন, আমিতো সেই মুসাফির ব্যক্তির মত, যে কোন গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তা ত্যাগ করে চলে যায়’। তিনি আরো বলেন, সর্বসুখ-বিনাশী মৃত্যুকে তোমরা অধিক স্মরণ কর। কারণ ইহা সঙ্কটকে সহজ করে ও সুখকে তিক্ত করে তোলে। এ দুনিয়া ঘর-বাড়ি আমাদের আসল ঘর-বাড়ি নয়। আসল ঘর হল কবর। আসল ঠিকানা হল জান্নাত অথবা জাহান্নাম। কবরে রাখার কিছুক্ষণ পরে দু’জন ফেরেশ্তা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান ও জিজ্ঞাসা করেন, ১. তোমার রব কে? ২. তোমার দ্বীন কী? ৩. তোমার নবী কে? আল্লাহকে যারা রব হিসেবে পেয়ে খুশি আছি, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও নবী মুহাম্মাদ (স.) কে নবী হিসেবে পেয়ে খুশি আছি তাদের সক্ষমতা হবে সঠিক জবাব দেওয়ার। ফলশ্রুতিতে এ সময় আকাশের দিক হতে আওয়াজ আসবে (এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন), ‘সে সত্য বলেছে। সুতারাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। সে এভাবে সুখভোগ করতে থাকবে। আর যারা বিভিন্ন অজুহাতে পরকাল ভুলে দুনিয়া নিয়েই ব্যস্ত ছিল, তারা জবাব দিতে পারবে না। মুমিনদের আত্ত্বা ইল্লিনে ও বে-দ্বীনদের আত্ত্বা সিজ্জিনে প্রেরণ করা হবে। সেখানে তারা জান্নাতের অথবা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।