বৃদ্ধদের জন্য বাসে থাক সংরক্ষিত আসন

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৪, ২১:৩৮
ঢাকা মহানগরীর কিছু বাসে মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য হাতেগোনা গোটা পাঁচেক আসন নির্ধারিত থাকলেও বৃদ্ধ অর্থাত্ ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের জন্য কোনো আসন বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি। যে জন্য বাসে উঠে বৃদ্ধদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাদের এ কষ্ট দেখে কেউ একটু সহানুভূতি দেখান না—এ কথাই শুনলাম একজনার মুখে। সেদিন এক বৃদ্ধ জানালেন- ভাই, এইতো ক’দিন আগে মিরপুর পূরবী থেকে উত্তরায় যাবো বলে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রজাপতি নামে একটি বাস এসে থামলো। বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আমিও উঠলাম। দেখি যারা বসে আছে তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। পিছনে গিয়ে ১৯ বছরের একটি ছেলেকে অনুরোধ করে বললাম, বাবা, আমি বৃদ্ধ আমাকে একটু বসতে দাও। পাল্টা ছেলেটি বললো, অন্যদিকে সিট দেখেন। ওই ছেলেটি আমাকে ঠেলে দ্রুত সিটটি দখল করছিল সেদিন। ছেলেটির কথা শুনে দু’জন যুবক চিত্কার দিয়ে বললো, এই হেলপার ওই বুড়োকে নামিয়ে দে সিট নাই। দাঁড়িয়ে লোক নিতে পারবি না। প্যান্ট শার্ট পরা ওই যুবকদের দেখে মনে হলো, ওরা গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়েছে। হেলপার এগিয়ে এসে বললো, চাচা, আপনি নেমে যান নচেত্ যাত্রীরা আরো ক্ষেপে যাবে। ততক্ষণে বাসটি কালসি ছাড়িয়ে গেছে। দেখলাম, হেলপার লেখাপড়া তেমন একটা জানে না তবে তার মধ্যে মানবতা সহানুভূতি সবই ছিল। হেলপার আস্তে করে বললো, আপনি দাঁড়িয়ে থাকুন। দুঃখ কি জানেন, ওই বাসের ৩০ থেকে ৩২ জন যুবকের ব্যবহার দেখে সেদিন মনে হলো ওরা ডিগ্রি নিলেও ওদের মধ্যে শিক্ষার বড়োই অভাব। আচার-ব্যবহার, সভ্যতায় ওরা পিছিয়ে রয়েছে বলেইতো বৃদ্ধদের প্রতি সম্মান দেখায় না। বৃদ্ধ ভদ্রলোক আরো জানালেন, বিদেশে ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের বাস ও ট্রেনসহ যে কোনো যানবাহনে চলাচলের জন্য নির্ধারিত আসন রয়েছে। এমনকি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০- ৪০% ভাড়া কমও নেয়া হয় বৃদ্ধদের কাছ থেকে। বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থা দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। লিয়াকত হোসেন খোকন, বাসা ৭, সড়ক ২৭, রূপনগর আবাসিক এলাকা, ঢাকা