পঁচিশ বছর বয়সে পাঁ রাখলেন গতকালই। ম্যাচের শুরুতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এক দল দর্শকের হাতে শোভা পাচ্ছিল প্রিয়জনের শুভেচ্ছা বার্তার বিশাল এক প্ল্যাকার্ড। চট্টগ্রামবাসী অপেক্ষায় ছিল ঘরের ছেলের জন্মদিন উদযাপনের। শুধু চট্টগ্রাম নয়, গোটা বাংলাদেশের চাওয়াটাই এমন ছিল না। কিন্তু সেটা হল না। সব আয়োজন মাটি করে দিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই অতিরিক্ত পেস বুঝতে না পেরে উইকেট দিয়ে আসলেন তামিম ইকবাল। বিপর্যয়ের শুরু হল সেখান থেকেই!
প্রথম ওভারে বাংলাদেশের সামনে যেনো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল মিচেল জনসন কিংবা লাথিস মালিঙ্গা। না, বিশ্বসেরা দলের ভয়ঙ্কর কোন বোলার নন। তিনি হলেন আইসিসির সহযোগী দেশ হংকংয়ের পেসার তানভির আফজাল। শেষ বলে আউট হয়ে ফিরলেন সাব্বির রুম্মান। প্রথম ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ড ছিল - দুই উইকেটে তিন রান!
তারপর অবশ্য বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছিলেন সাকিব আল হাসান ও এনামুল হক বিজয়। পাঁচ ওভারের মধ্যে ৪৮ রান তুলে ফেলে বড় স্কোর করার স্বপ্নও দেখাচ্ছিলেন দু’জন। সাকিব ২৭ বলে ৩৪ আর বিজয় ১৭ বলে ২৬ রান করেন। এরপর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ১৮ বলে করেন ২৩ রান। ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ‘ইতিবাচক’ প্রদর্শনী ওইটুকুই।
বিজয়, সাকিব আর মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার পর আবারও সেই পুরনো চিত্র। ৮৫ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। তখন মাত্র একাদশতম ওভারের খেলা চলছে। বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে আবির্ভাব হলেন নাদিম আহমেদ নামের এক পেসার।
মুলতানে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার একাই নিয়ে নিলেন চারটি উইকেট। বিজয় আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উইকেট নিয়ে শুরু করলেন। শেষে এসে ছেটে দিলেন বাংলাদেশের টেল এন্ডারদের। শেষ পর্যন্ত বলা যায় তিন ওভার তিন বল বোলিং করে ২১ রানে চার উইকেট নিয়ে একাই ধস নামিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে।
নাদিমের সাথে উইকেট নেয়ার মেলায় হাত লাগিয়েছেন নিজাকাত খান। লেগব্রেক এই বোলার ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এর সাথে ধরেছেন সাকিবের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ক্যাচ।
এই দু’জনের তাণ্ডবে মাত্র ১০৮ রানের মধ্যে অল আউট বাংলাদেশ। শেষ ২১ বল আর খেলাই হল না। ২৪ রানের মধ্যে পড়লো শেষ সাতটি উইকেট। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এভাবেই আবারও ফিরে আসলো ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিন।
