মাত্র একদিন আগেই নিজের ইনজুরি জর্জরিত ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলছিলেন। যে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, মাঠের বাইরে যে কষ্ট করতে হয় প্রতিবার ফেরার জন্য; সে সব বলছিলেন। আর সবশেষে একটা কথা খুব জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘এতো কষ্ট করেও বারবার ফিরে আসি শুধু এই জার্সিটা পরবো বলে। আমি বাংলাদেশ দলে খেলছি না, এমনটা জীবনে কল্পনাও করতে পারি না।’
অথচ নিয়তির কী পরিহাস দেখেন!
সেই কথাগুলো বাসি হতে না হতেই আবার ইনজুরির কবলে পড়ে দলকে চট্টগ্রামে রেখে ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে সেই মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। গতকাল বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে আবার পরীক্ষা করা হয়েছে তার।
এ পরীক্ষায় ফল টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও জানায়নি। তবে দলের একটি সূত্র আগেই জানিয়ে রেখেছে, পাঁজরের এই ব্যথা না কমলে তার পক্ষে সুপার টেনের শুরুতেও খেলা কঠিন হয়ে যাবে।
দুই হাঁটুতে সাতটা অপারেশন হয়ে যাওয়া মাশরাফির সর্বশেষ সমস্যা ছিল গোড়ালিতে। তারপর আবার হাঁটুর ফুলে ওঠা নিয়ে ভুগছিলেন। ফলে ইদানিং তাকে প্রতি ম্যাচের আগেই অসহনীয় যন্ত্রণার এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে বর্তমানের সমস্যা এসবের কোনোটাই নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের হাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। সে ব্যথা শুরুতে খুব না ভোগালেও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেড়ে যায়। পরে চট্টগ্রামেরই একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, পাঁজরে কোনো চিড় নেই।
তবে মাশরাফির ব্যথা বেড়েছে। এ ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ কথা বলতে না চাইলেও ভেতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ফিজিও বিভব সিংও মনে করছেন এতোটা ব্যথা নিয়ে শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে খেলাটা অসম্ভব। তাই গতকাল বিকালে আবার তার পরীক্ষা করা হয়।
এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘আমি জানি না, এই পরীক্ষায় কী ফল আসবে। তবে এই ব্যথা সাধারণত সারতে সময় লাগে। হোম টিম বলে হয়তো মাশরাফিকে পুরো তুলে নেয়া নাও হতে পারে। তবে এই ব্যথা নিয়ে সুপার টেনের শুরুতেও খেলা কঠিন হবে।’
