চট্টগ্রামের ঘরের ছেলে বলে এখানে খেলা হলেও তামিম ইকবালের কাছে চাওয়াটাও বেশি থাকে। কিন্তু কোনো ফরম্যাটেও এখনও পর্যন্ত নিজের মাঠে বড় কোনো ইনিংস খেলতে না পারা তামিমের এ নিয়ে দুঃখ আছে। সে দুঃখটা কিছুটা হলেও ভুলেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে দলের জয়গুলোতে অবদান রেখে। তবে এখন পেছনে এই কথার চেয়ে সুপার টেন নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশের এই তারকা ওপেনারকে। গতকালকের ম্যাচের আগে ক্রিকেট বিষয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে নিজের ও দলের সেই সুপার টেন পরিকল্পনা বলেছেন তামিম ইকবাল—
শুরুতে তো আপনাদের ওপর একটা প্রত্যাশার চাপ ছিল। সেটাকে পার করে আসতে পেরেছেন। এখন আপনাদের পরিকল্পনাটা কী?
হ্যা, টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে আমরা একটু চাপে তো ছিলামই। ঘরের মাটিতে খেলা, আমাদেরকে বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে; ফলে আমরা প্রতিটা ম্যাচই জিতবো, এমনই প্রত্যাশা ছিল লোকেদের। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় এখন পর্যন্ত আমরা নিজেদের কাজটা করতে পেরেছি। এরপর আমাদের প্রথম খেলা হল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ছোট-বড় সবার বিপক্ষেই জিততে গেলে সেরা খেলাটা খেলতে হবে। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে হারাতে আমাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করতে হবে।
সুপার টেনে আপনাদের খেলতে হবে বিশ্বসেরা দলগুলোর সঙ্গে। সেখানে কী ভালো কিছু আশা করতে পারেন?
আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস আছে। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে যে কাউকে হারাতে পারি। সেই বিশ্বাস আমাদের আছে। আমি নিশ্চিত সেটা আমরা করতে পারবো।
এশিয়া কাপের কারণে গ্রুপের দুই সঙ্গী ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্কে তো ভালো ধারণা আছে আপনাদের?
হ্যা, আমরা ওদের দু’ দলের বিপক্ষেই সম্প্রতি খুব ভালো খেলেছি। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের খেলায় হেরে গেছি। ওদের বিপক্ষে গত কিছুদিনে বেশ কিছু ম্যাচ খেলায় আমাদের ভালো ধারণা আছে। এরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে আছে। এদের হারানো মুখের কথা নয়। ক্ষমতার নব্বই শতাংশ দিয়েও এদের হারানো যাবে না; শতভাগেরও বেশি দিতে হবে। আমাদের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবই খুব ভালো করতে হবে। সেটা করার ক্ষমতা আছে আমাদের।
আপনার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কী সন্তুষ্ট?
আমি ভালো শুরু পেয়েছি। কিন্তু এরপরই আউট হয়ে গেছি। এটা নিয়ে আসলেই কাজ করতে হবে। কারণ, বড় দলগুলোর বিপক্ষে জিততে গেলে সেট হয়ে বড় ইনিংসও খেলতে হবে। আসলে বলাই তো হয়, ক্রিকেটে সেট হয়ে বড় ইনিংস না খেলে আউট হওয়াটা এক ধরনের অপরাধ। আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো, এরপর শুরুটা করতে পারলে সেটা চালিয়ে যাওয়ার। আমি নিশ্চিত সুপার টেনে বড় দলগুলোর বিপক্ষে সেরকম কিছু আমি করতে পারলে দলের উপকারই হবে।
কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ তো তাদের ঘরের ছেলের কাছ থেকে আরও বড় কিছু আশা করে...
হ্যাঁ, চট্টগ্রামে আমি এখনও বড় কিছু করতে পারিনি, এটা সত্যিই হতাশাজনক। কারণ আমার শহরের লোকেরা আমার বড় ইনিংস দেখতেই চায়। তবে তাদের কথা যদি বলি, তারা সবসময়ই আমাকে দারুণ সমর্থন দেন। এমনিতেই চট্টগ্রামের মানুষ ক্রিকেট খুব ভালোবাসেন। তারপর এখানকার ছেলে হিসেবে আমার প্রতি তাদের অনেক ভালোবাসা। আশা করি, এরপর সুযোগ পেলেই আমি বড় একটা ইনিংস খেলে তাদের খুশি করতে পারবো।
