সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা চলাকালে বিদ্যূত্ বিভ্রাটের ঘটনায় সিলেট জুড়ে তোলপাড় চলছে। বুধবার রাতে দ্বিতীয়দিনের মত খেলা চলাকালে বিদ্যুত বিভ্রাটের ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সিলেটবাসীকে বিষ্মিত ও অসন্তুষ্ঠ করে তুলেছে।
প্রথমবারের মতো সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চলাকালে পুনরায় যাতে এধরনের বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহষ্পতিবার সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংস্লিষ্টরা জরুরী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বারবার স্টেডিয়ামের ভিতরে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের কারণ নির্ণয় করে এর প্রতিকারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
সূত্র জানায় বিভাগীয় স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক লাইনের কাজে অনিয়ম ও তা মানসম্মত না হওয়ায় বিশ্বকাপ চলাকালে বারবার বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটছে। এতে ফ্লাডলাইটের আলোর স্বল্পতাসহ বৈদ্যুতিক গোলযোগে খেলা বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা গেছে এরকম একটি আশঙ্কার কথা বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড খেলা শুরুর বেশ আগেই জানিয়েছিল। সিলেট বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ৯ মার্চ বিসিবি পরিচালক ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারী শফিউল আলম নাদেলকে এক চিঠিতে এ ব্যাপারে জানিয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছিল ‘স্থাপিত আভ্যন্তরীণ ইলেকট্রিকেল ওয়্যারিং মানসম্মত ভাবে খেলা চলাকালীন সার্বক্ষনিক সময়ে বিদ্যুত্ পরিবহনে সক্ষম কিনা এই বিষয়ে সরকারের বৈদ্যুতিক উপদেষ্টা ও প্রধান বিদ্যুত্ পরিদর্শকের দপ্তরের ছাড় পত্র গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা গেল।’
কিন্তু বিষয়টি আমলে না নেয়ায় ১৭ মার্চ অভিষেক ম্যাচেই বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটে। এদিন প্রায় আধঘন্টা বিদ্যুিবহীন থাকে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড ও মিডিয়া সেন্টার। ভিআইপি গ্যলারী সহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুত্ ছিল না। দিনের বেলায় খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মাঠে দর্শকদের মধ্যে এর প্রভাব না পড়লেও বাহিরে ঠিকই হৈচৈ পড়ে যায়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার রাতে আয়ারল্যান্ড-আরব আমিরাত ম্যাচে আবারো বিদ্যুত বিভ্রাট ঘটে। রাত ১০.১০ মিনিটে হঠাত্ ফ্লাড লাইট নিভে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার বিদ্যুত্ আসলেও দুই তিন মিনিটের মাথায় আবার চলে যায়। এ দফায়ও কয়েক মিনিট বিদ্যুত্ বন্ধ থাকে। এরপর আবার ১০.১৯ বিদ্যুত্ চলে গেলে তা পাচ মিনিট বন্ধ ছিল। এরপর শুরু হয় ঝড়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শেষ হয় ডিএল মেথডে।
এর আগে ১৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টায় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে স্থাপিত ক্যাপাসিটর ব্যাংকটি স্টেডিয়ামের আভ্যন্তরীণ ত্রুটির জন্য আগুন লেগে পুড়ে যায় বলে সংস্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। বিদ্যুত্ বিভাগের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বার বার স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে সংস্লিষ্টরা তেমন গুরুত্ত দেননি।
সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শেষ করা হয়েছে বলে অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যথাযথ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুত্ বিভাগ সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সোলায়মান গতকাল ইত্তেফাককে জানান তাদের দায়িত্ব শুধূ স্টেডিয়ামের গেইট পর্যন্ত সঞ্চালন নির্বিঘ্ন রাখা। তবে স্টেডিয়ামের আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্যাপাসিটর ব্যাংক প্রতিস্থাপন করা না হলে ফ্লাডলাইটে আলোর স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
