চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলেও সেটাকে মোটেই চাপ হিসাবে মানতে নারাজ মোহাম্মদ হাফিজ। ভারত তো বটেই; টি-টোয়েন্টি শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে পাকিস্তান যে কাউকে হারাতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্য রকম লড়াই। যেখানে ফেভারিট বলে কোন দল নেই। আর ক্রিকেটপ্রেমী মাত্রই এটা সবার জানা এই ম্যাচে অতীত রেকর্ডের ভূমিকা সামান্যই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান কখনো ভারতকে হারাতে পারেননি এই তথ্য তাই হেসেই উড়িয়ে দিলেন হাফিজ। ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই দলের অন্যতম প্রধান ভরসা এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘যদি অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে হয়তো আমাদের খুব বেশি অনুপ্রাণিত হবার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা সব সময়, সব পরিস্থিতিতেই চাই জিততে। যে কোন দলের বিপক্ষেই পাকিস্তান ম্যাচ জেতার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়া আমাদের দলে শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিকের মতো অলরাউন্ডার আছেন। আছেন কামরান আকমলের মতো উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানও। এই ব্যাপারগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের এগিয়ে রাখবে।’
উমর গুল, সাঈদ আজমল, আফ্রিদিদের কল্যাণে বোলিং বিভাগে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে পাকিস্তানই। তবে ব্যাটিং আর কন্ডিশন বিচারে ভারতকেও খুব একটা পিছিয়ে রাখতে নারাজ হাফিজ। সদ্যই এশিয়া কাপ খেলে যাওয়ার কারণে কন্ডিশনের দিক থেকে দু’দলই সমান সুবিধা পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এশিয়া কাপ খেলেছি। সবাই জানে এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে। নিশ্চিতভাবেই সেটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। তবে ভারতীয় দলেরও এখানে খেলার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। আমার মনে হয়, অভিজ্ঞতার বিচারে কাউকে এগিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এই দিন যে ভাল খেলবে সেই ম্যাচ জিতবে।’
এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে কখনো জিততে না পারলেও দু’দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে জয় পেয়েছিল পাকিস্তানই। আরেকটি পাক-ভারত রোমাঞ্চের উদাহরণ হয়ে থাকা এশিয়া কাপের ঐ ম্যাচে শেষ ওভারের নাটকে পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতাতে সেই ম্যাচে বড় ভূমিকা ছিল আফ্রিদির। সেরা ফর্মের আফ্রিদি সব সময়ই বিশেষ কিছু বলে এই ড্যাশিং অলরাউন্ডারকে আরো একবার প্রশংসার বন্যায় ভাসালেন হাফিজ। তিনি বলেন, ‘সে সত্যিই দারুণ ফর্মে আছে। এশিয়া কাপে সে আরেকবার দেখিয়েছে তার সামর্থ্য। তার এই ফর্মটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাকে হয়তো ব্যাট হাতে নামতে হবে। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার সবসময়ই দলের হয়ে বড় ভূমিকা রাখে। সে ভাল ফর্মে আছে এটা সবসময়ই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
