দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়, তখনই সেরাটা বেরিয়ে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের যুগে ম্যান ইউর এই রূপেই দেখে অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু এই মৌসুমে রেড ডেভিলদের সেই রূপটিরই যেন দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে প্রথম লেগে হারের পর যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কা, তখনই সেই চিরচেনা দুর্দমনীয় রূপে ফিরে এলো ইউনাইটেড। আর গ্রীক প্রতিপক্ষকে ৩-০ তে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখার রাতে তিনটি গোলই আসলো রবিন ফন পার্সির কাছ থেকে। রাতের অন্য ম্যাচে নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে হেরেও সবমিলে ৫-৪ গোলের অগ্রগামীতা নিয়ে সেখানে ইউনাইটেডের সঙ্গী হয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।
অন্যদিকে চাপের মধ্যে থাকা ইউনাইটেড ম্যানেজার ডেভিড ময়েস কাল মাঠে অন্যরকম এক ইউনাইটেডকে আবিষ্কার করেছেন। প্রথম লেগে অলিম্পিয়াকোসের কাছে বিস্ময়করভাবে ২-০ গোলে পরাজিত ইউনাইটেড যে নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কতটা চাপে ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ডাচ উইঙ্গার ফন পার্সি সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইংলিশ দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লীগে ইউনাইটেডকে পৌঁছে দিয়েছেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ইউনাইটেড শেষ আট নিশ্চিত করে। রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে ঘরোয়া লীগে পরাজিত হবার পরে দলের এই প্রত্যাবর্তন নি:সন্দেহে শেষ আটের অন্য দলগুলোর জন্য একটি সতর্ক বার্তাই বটে। এর আগে একবারই চ্যাম্পিয়নস লীগে প্রথম লেগে পরাজিত হবার পরে লড়াইয়ে ফিরে এসেছিল ইউনাইটেড।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ওয়েইন রুনির হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ইউনাইটেডের ভাগ্য নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। যদিও পেনাল্টি থেকে ২৫ মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে ফন পার্সি দলকে এগিয়ে দেবার পরে স্বাগতিক শিবিরে স্বস্তি ফিরে আসে। স্পট কিক থেকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক রবরেতোকে পরাস্ত করতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ডাচম্যান। এরপর অবশ্য প্যাট্রিচ ইভরার একটি হেড দারুনভাবে রক্ষা করেন রবরেতো। গত সপ্তাহে গ্রীক শিরোপা ফিরে পাওয়া অলিম্পিয়াকোস অবশ্য এরপর দুটি ভাল আক্রমন চালালেও ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড ডি গি’র কল্যাণে এগিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে রুনির লো ক্রস থেকে ফন পার্সি নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ইউনাইটেড এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখতে থাকে। ৫২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফন পার্সি ইউনাইটেডকে রক্ষা করেন।
চ্যাম্পিয়নস লীগে পরবর্তী রাউন্ডে এগিয়ে যাওয়ায় ময়েস উচ্ছসিত হলেও ইভরার হলুদ কার্ড এবং ফন পার্সির ইনজুরি নিয়ে দু:শ্চিন্তা থেকেই গেল। হলুদ কার্ডের কারনে ইভরা কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। ম্যাচ শেষে বৃটিশ স্কাই টেলিভিশনে ময়েস বলেছেন, ‘রোববারের পরাজয়ের পরে খেলোয়াড়রা যেভাবে ফিরে এসেছে তাতে আমি দারুণভাবে সন্তুষ্ট।’
