সুপার টেনে বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩৩
পুরো দেশের মানুষই একটা দ্বন্দ্বে পড়ে গেলেন—হারের জন্য কষ্ট করবেন, নাকি সুপার টেনে যাওয়ার আনন্দ করবেন! এই দ্বন্দ্বের তো সমাধান হওয়ার নয়। তবে রানরেটের ধাঁধা সমাধান করে হংকংয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরাজয়ের পরও ফাইনালে চলে গেল বাংলাদেশ। মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ মাত্র ১৬.৩ ওভারে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ১০৮ রানে। জবাবে ম্যাচের মাত্র ২ বল বাকী থাকতে ২ উইকেটের এক জয় তুলে নেয় হংকং। বাংলাদেশ জিতলে সুপার টেনে যাবেই, হারলেও যেতে পারবে— সেক্ষেত্রে হংকংকে ১৩.১ ওভারের মধ্যে কিছুতেই জয় পেতে দেয়া চলবে না। হংকং তা পারলে রান রেটে বাংলাদেশকে টপকে সুপার টেনে চলে যেত নেপাল। ব্যাটসম্যানদের মতো বোলাররা অবশ্য হতাশ করলেন না। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান তার সেরা ফর্মে আবির্ভূত হলেন। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে শুরুতেই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে সাকিবই আসলে নিশ্চিত করে দিলেন বাংলাদেশের সুপার টেনে খেলা। সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর একটি উইকেট এবং আল আমিনের বলে মুশফিকের অসাধারণ এক ক্যাচে ৯ ওভারে ৫০ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে হংকং। এখান থেকে বাংলাদেশ সুপার টেনে ওঠার সমীকরণ মুখ্য চিন্তা থেকে সরিয়ে ফেলে বরং জয়ের চিন্তা শুরু করে। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান সাত নম্বরে নামা মুনির দার। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রান করা মুনিরকে রাজ্জাক এসে ফেরান। মাঝে আবার ফরহাদ রেজা এসে এক ওভারে ১৫ রান দিয়ে খেলা ঝুঁকিয়ে দেন হংকংয়ের দিকে। ফলে শেষ তিন ওভারে হংকংয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১ রান। ওখান থেকে পরপর দু ওভারে রাজ্জাক ও সাব্বির মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। ফলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে হংকংয়ের শেষ ওভারে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬ রান। রাজ্জাকের শেষ ওভারের প্রথম ৩ বলেই ৫ রান নিয়ে সমতায় চলে আসে হংকং। আর চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন হাসিব আমজাদ। যতোটা বাজেভাবে সম্ভব ছিল, তার চেয়েও খারাপভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। একেবারে দর্শক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে বসল বাংলাদেশ; স্কোরবোর্ডে রান তখন ৩! ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তামিম এবং ষষ্ঠ বলে সাব্বির আউট হয়ে ফিরলেন। এরপর অবশ্য দারুণ একটা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন বিজয় ও সাকিব জুটি। ৪৮ রান যোগ করেন এই দু’জন তৃতীয় উইকেটে। ১৭ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ২৬ রান করে ফিরে যান বিজয়। এরপরও সাকিব আরেকটা ভালো জুটি করেছেন মুশফিকের সঙ্গে। চতুর্থ উইকেটে এ দু’ জন যোগ করেন ৩৪ রান। সাকিব ২৭ বলে ৩৪ ও মুশফিক ১৮ বলে ২৩ রান করে পরপর দুই ওভারে ফিরে যান। আর এই থেকে শুরু হয় চরম বিপর্যয়। পরের ৬.১ ওভারে ২৩ রান যোগ করতে বাংলাদেশ বাকী ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউটই হয়ে যায়! সাকিব, বিজয় ও মুশফিকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে রানরেটটা দারুণই ছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যানই রুখে দাঁড়াতে না পারায় মানসম্মানের বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন হংকংয়ের নাদিম আহমেদ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ১৬.৩ ওভারে ১০৮/১০ (তামিম ০, এনামুল ২৬, সাব্বির ২, সাকিব ৩৪, মুশফিক ২৩, নাসির ১৪*, মাহমুদউল্লাহ ২, ফরহাদ ০, রাজ্জাক ০, রুবেল ০, আল আমিন ১; আফজাল ২/২৪, হাসিব ০/১৬, নাদিম ৪/২১, ইরফান ১/১৭, এহসান ০/১০, নিজাকাত ৩/১৯)। হংকং: ১৯.৪ ওভারে ১১৪/৮ (মুনির ৩৬, ইরফান ৩৪; আল আমিন ১/২৬, সাকিব ৩/৯, রাজ্জাক ১/৩১, মাহমুদউল্লাহ ২/১৩, সাব্বির ১/৩)। ফল: হংকং ২ উইকেটে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাদিম আহমেদ