মহাখালী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) রাইস স্যালাইনের (খাবার স্যালাইন) হুবহু নকল করে খোদ রাজধানীতেই তৈরি হচ্ছে নকল স্যালাইন। কল-কারখানায় ব্যবহূত রাসায়নিক দ্রব্য সংমিশ্রণে এসব স্যালাইন তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে বাজারজাত করছে একটি অসাধু চক্র। এসব স্যালাইন দেখে ক্রেতাদের বোঝার কোন উপায় নেই যে, এটা নকল। সরল বিশ্বাসে আইসিডিডিআরবি’র মোড়ক (!) দেখে তারা এই স্যালাইন কিনে ডায়রিয়া রোগীদের খাওয়াচ্ছেন। আর এই স্যালাইন খাওয়ার পর ডায়রিয়া প্রতিরোধের পরিবর্তে রোগীর জীবনই হুমকির মুখে পড়ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্ববৃহত্ ওষুধের মার্কেট পুরনো ঢাকার মিটফোর্ডে আইসিডিডিআরবি’র মোড়কে নকল রাইস স্যালাইন উত্পাদনকারী কারখানার সন্ধান পায় মোবাইল কোর্ট। র্যাব-১০ এর মেজর তৌফিকুল বারি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট বাবুবাজার ব্রিজের পাশে সাততলা ভবনের ৬ তলায় অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান চালায়। তারা ৩৬ হাজার প্যাকেট নকল স্যালাইন জব্দ করে কারাখানা সিলগালা করে দেয়। এসময় কোর্ট কারখানার মালিক ওবায়দুর রহমান পলাশ ও কর্মচারী হিমেল ফকিরকে আটক করে। পরে পলাশকে এক বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া কর্মচারী হিমেল ফকিরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
কারখানা মালিক পলাশ স্বীকার করেন যে, অধিক মুনাফার লোভে গত তিনবছর ধরে তিনি এই স্যালাইন তৈরি করছেন। তার কারখানায় দৈনিক ৪ সহস্রাধিক প্যাকেট স্যালাইন তৈরি হতো।
মোবাইল কোর্টে অংশগ্রহণকারী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক প্রতিনিধি জানান, আইসিডিডিআরবি রাইস স্যালাইন তৈরির জন্য ওষুধ প্রশাসন থেকে কোন অনুমোদন নেয়নি। এসময় মোবাইল কোর্ট আইসিডিডিআরবি’র স্যালাইন উত্পাদনকারী বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
এ ব্যাপারে আইসিডিডিআরবি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আইসিডিডিআরবি’র রাইস স্যালাইন নকল করে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে সংবাদ পাচ্ছি। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ওই স্যালাইনের মোড়ক পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন মোড়ক নকল করা দুষ্কর। তিনি বলেন, আমাদের রাইস স্যালাইন মার্কেটিং করা হয় না। আইসিডিডিআরবি’র রোগীদের জন্য শুধু এ স্যালাইন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে বাইরে থেকে কোন রোগীর প্রয়োজন হলে সরাসরি আইসিডিডিআরবি থেকে কিনে নিতে পারেন। অবশ্য এই স্যালাইন উত্পাদনের জন্য ্ওষুধ প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের কোন অনুমোদন নেই। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে আইসিডিডিআরবি’র পক্ষ থেকে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি না পাওয়ায় উত্পাদিত স্যালাইন মার্কেটিং করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত বছর পুলিশ এ ধরনের বিপুলসংখ্যক নকল স্যালাইন জব্দ করে আইসিডিডিআরবিতে পাঠায়। সেখানে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই স্যালাইনে এমন রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে; যা খাওয়ার পর কোন রোগীর বেঁচে থাকার কথা নয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, কারখানায় ব্যবহূত রাসায়নিক দ্রব্য সংমিশ্রণে তৈরি খাবার স্যালাইন খেলে শিশুদের কিডনি নষ্ট হয়ে মারা যাবার আশংকাই বেশী। এমনকি এই স্যালাইন বয়স্ক মানুষ খেলেও একই পরিণতি হবে।
