মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি কোথায় গেল গোটা বিশ্বের আনাচে কানাচে যখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তখন কিছুটা আশার বাণী শোনালো অস্ট্রেলিয়া। দেশটি জানিয়েছে, স্যাটেলাইটে তোলা ভারত মহাসাগরের ছবিতে তারা এমন কিছু দেখতে পেয়েছে যা হয়তো মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমানটির ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। এই অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে গতকাল পার্লামেন্টে এক বিবৃতি দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট। তিনি বলেন, এই নতুন পাওয়া তথ্য বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
তিনি জানান, ভারত মহাসাগরে ভাসমান বস্তু দুটির একটি প্রায় ২৪ মিটার লম্বা। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি তল্লাশি বিমানে থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, বিমানটির ক্রুদের ধারণা, তারা এই ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করতে পেরেছেন এবং এখন সেটি তদন্ত করে দেখতে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। টনি অ্যাবট বলেন, ‘স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য দুটি বস্তু পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম সেফটি অথরিটি (এএমএসএ)। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুটি বস্তু চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।’
উল্লেখ্য, বোয়িং ৭৭৭ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করার পর ৮ মার্চ ভোরে নিখোঁজ হয়। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত পরিবহনমন্ত্রী হিসামউদ্দিন হুসাইন কুয়ালালমপুরে সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজ বিমান অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দিক। তিনি বলেন, আমরা প্রথমদিন থেকেই বিমান অনুসন্ধানে কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যেকটি ঘটনা ও দিক খতিয়ে দেখছি। এবার আমি কেবল আশা করতে পারি, এটা একটা ইতিবাচক অগ্রগতি। প্রত্যেকটি নতুন দিকই একটি আশা। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে চাই।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখতে পাওয়া ওই বস্তু দুটির অবস্থান নির্ণয়ে একটি ওরিয়ন বিমান সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আরও তিনটি বিমান পাঠানোর কথা জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সঙ্গে কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার আহ্বানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিমান অনুসন্ধানে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া।
উল্লেখ্য, এর আগেও নিখোঁজ বিমানের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় বের হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তদন্তে তা ভুল প্রমাণিত হয়। একারণে ধ্বংসাবশেষ সদৃশ বস্তুগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে চুড়ান্ত সিন্ধান্তে পৌছাতে চাইছে না কোনো মহল। গতকালই নরওয়ের একাধিক জাহাজ পৌছে যায় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে যেখানে বস্তুদুটো দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বস্তুদুটোর সঙ্গে মালয়েশিয়ার ওই যাত্রীবাহী বিমানের কোনো সম্পর্ক থাকে তবে যাত্রীদের জীবিত ফিরে পাবার সব আশা ত্যাগ করতে হবে।
